images

প্রবাস

যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগ, বাংলাদেশির বিচার শুরু

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০১:৫৩ পিএম

দক্ষিণ আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর অভিযোগে টেক্সাসের লারেডোতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯) নামে এক বাংলাদেশি। একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।  

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয় এবং তিনি লারেডোতে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে দাখিল করা দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আশ্রয় দেওয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই চক্রে মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮) নামে আরও দুজন বাংলাদেশি জড়িত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মন্টেরে শহরে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মন্টেরেতে তাদের আশ্রয় দিয়ে রিও গ্র্যান্ডে নদী পেরিয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। নদী পার হওয়ার সময় অনেক অভিবাসী গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের এই যাত্রার জন্য অনেক বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করেছিলেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন আগে দোষ স্বীকার করেন এবং প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসী আনা, অবৈধভাবে অভিবাসী প্রবেশে ষড়যন্ত্র এবং অভিবাসীদের অবৈধ প্রবেশে উৎসাহ ও সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে অভিবাসী আনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মামলার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস এবং ব্রাজিলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করেছে। ব্রাজিল থেকে অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণে বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই মামলাটি তাদের যৌথ টাস্কফোর্স ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’-এর আওতায় পরিচালিত হয়েছে। এই টাস্কফোর্স আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে।

তবে, বিচার বিভাগ এটাও মনে করিয়ে দিয়েছে, অভিযোগপত্র কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আরটিভি/এসএইচএম