সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলামের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ব্রঙ্কসে একটি সড়কের নাম তার নামে উৎসর্গ করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ জুলাই) সাউন্ডভিউ এলাকার ইস্ট ১৭২তম স্ট্রিট ও বিচ অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে আনুষ্ঠানিকভাবে "ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ওয়ে" নামফলক উন্মোচন করা হয়। এই বীর পুলিশ কর্মকর্তার অনন্য আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিউইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষ এমন বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে দিদারুল ইসলামের স্ত্রী, সন্তান, স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী উপস্থিত ছিলেন।
তাদের সঙ্গে যোগ দেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কমিশনার জেসিকা টিশ, তার সহকর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে আবেগঘন এক বক্তব্য দেন এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ।
তিনি বলেন, দিদারুল ইসলাম শুধু একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ স্বামী, পিতা এবং কমিউনিটির জন্য এক দারুণ আদর্শ সদস্য। কমিশনার আরও বলেন, তার নাম এখন থেকে নিউইয়র্কের ইতিহাসের একটি স্থায়ী অংশ হয়ে থাকবে।
স্মরণীয় ও আবেগঘন এই নামকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দিদারুল ইসলামের স্ত্রী তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে অংশ নেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান যে এই সম্মান তাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়। তবে একই সঙ্গে প্রিয়জনকে হারানোর আজীবনের বেদনা কখনো মুছে যাবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড দিদারুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। সে সময় বন্দুকধারী শেন ডেভন তামুরার গুলিতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। ওই ভয়াবহ হামলায় মোট চারজন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান। পরবর্তীতে হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করে। তদন্তে জানা যায় যে হামলাকারী ন্যাশনাল ফুটবল লিগকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালাতে এসেছিল। সে দীর্ঘদিন ধরে ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করছিল যা পরে ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়।
দিদারুল ইসলামের এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যু শুধু নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিকেই স্তব্ধ করেনি। এই ঘটনা পুরো শহরকে গভীরভাবে শোকাহত ও নাড়া দিয়েছিল। তার অনন্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সড়কের এই নামকরণকে নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ একজন সাহসী পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি শহরের স্থায়ী শ্রদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেছে। চিরকাল এই সড়কটি তার বীরত্বের কথা মনে করিয়ে দেবে।
আরটিভি/এআর