বৃহস্পতিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৩:১৭ পিএম
অনেক সময় আমরা এমন কিছু অদৃশ্য সমস্যার সম্মুখীন হই, যা চিকিৎসা বা সাধারণ উপায়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো বদনজর এবং কালো জাদু। হিংসা বা ঈর্ষার কারণে মানুষের দৃষ্টির আঘাত বা বদনজরের ঘটনা যেমন বাস্তব, তেমনি কারও ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে কালো জাদু করা ও সত্য। ইসলাম ধর্মে এটি গুরুতর গোনাহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
বোখারি শরিফে উল্লেখ আছে, নবীজি মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ৭টি ধ্বংসকারী কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। সাহাবিরা জানতে চাইলে রাসুল (সা.) বলেন: আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু, যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে কাউকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের মাল ভক্ষণ করা এবং সরল প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া। (বোখারি: ২৫৭৮)
প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ কালো জাদু চেনার জন্য ৫টি প্রধান লক্ষণ উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী,
.একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি কোনো চিকিৎসা বা ট্রিটমেন্ট কাজ না করে,
.অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়,
.ঘুমের মধ্যে প্রচুর খাওয়ার অভ্যাস থাকে,
.অতিরিক্ত ঘুম আসে এবং হঠাৎ হাই বা উদ্দীপনা দেখা দেয়,
.তবে এটি কালো জাদুর সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
শায়খ আরও বলেন, এর বাইরে আরও কিছু আলামত থাকতে পারে।
কালো জাদুর ক্ষতি থেকে বাঁচার ৫ আমল
এক. উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে, কোনোকিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। দোয়াটি হলো, بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।
অর্থ: আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনোকিছুই যার নামের বরকতে ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (তিরমিজি : ৩৩৮৮)
দুই. সকাল সন্ধ্যার আরেকটি দোয়া أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ: আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিনশাররি মা খালাকা।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসিলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এই দোয়াটি সন্ধ্যার সময় পড়লে ওই রাতে কোনো সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি কষ্ট দিতে পারে না। (তিরমিজি : ৩৪৩৭)
তিন. জাদু দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবীজিকে (সা.) এই দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়েছিলেন। بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইয়্যুজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হা-সিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।
অর্থ: আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি, সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। (মুসলিম ২১৮৬, তিরমিজি ৯৭২)
চার. সুরা ফালাক ও নাস এক্ষেত্রে অনেক বেশি উপকারী। সকাল-সন্ধ্যা সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস প্রতিটি তিনবার করে পড়ার পরামর্শ দেন আলেমগণ।
পাঁচ. সুরা ফাতিহার অন্য নাম হলো সুরা শিফা অর্থাৎ আরোগ্য লাভের সুরা। এই সুরাও পড়া যেতে পারে।
আরটিভি/এসকে