images

ধর্ম

জুমার রাতে দরুদ, ফজিলত লাভের অসাধারণ সুযোগ

বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ০৯:৩৬ পিএম

ইসলামে দিন গণনা শুরু হয় সূর্যাস্ত থেকে। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার মাগরিবের পরই শুরু হয় জুমার দিন, যা শেষ হয় শুক্রবার সূর্যাস্তে। তাই বৃহস্পতিবার রাতই ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার রাত, আর এই রাতকে ইবাদত ও আল্লাহর স্মরণের বিশেষ সময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

জুমার রাতের ফজিলত: হাদিসে এসেছে, জুমার রাত দোয়া কবুলের অন্যতম সময়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, পাঁচটি রাত এমন রয়েছে, যে রাতের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ১. জুমার রাত। ২. রজবের প্রথম রাত। ৩. শবে বরাত। ৪. ঈদুল ফিতরের রাত। ৫. ঈদুল আজহার রাত।” (মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক: ৭৯২৭)

দরুদ পাঠের গুরুত্ব

আল্লাহ তা’আলা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং সালাম পেশ করো। (সুরা আহজাব: ৫৬)

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন,যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)

তোমরা জুমার দিন বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। যে ব্যক্তি আমার ওপর বেশি দরুদ পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন সে-ই আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে। (তারগিব: ১৫৭)

যে ব্যক্তি জুমার দিন ও রাতে দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ১০০টি প্রয়োজন পূরণ করবেন, ৭০টি আখেরাতে ও ৩০টি দুনিয়াতে।(বায়হাকি: ২৭৬)

করণীয় আমল

.যতটা সম্ভব বেশি দরুদ পাঠ করা।

.দরুদে ইব্রাহিমি পাঠ করা (যা নামাজে পড়া হয়)।

.সহজ দরুদ “সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” বারবার বলা।

.আন্তরিকতা ও ভালোবাসা নিয়ে দরুদ পাঠ করা।

.পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত, ইস্তিগফার, তাসবিহ ও দোয়া করা।

সতর্কতা:  দরুদ পাঠের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। তাই এটিকে ফরজ বা ওয়াজিব মনে করা যাবে না। মূল বিষয় হলো আন্তরিকতা ও ভালোবাসা।

বার্তা: জুমার রাত ও দিন আল্লাহর রহমত অর্জনের সেরা সময়। দরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে গুনাহ মাফ, দোয়া কবুল, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভ সম্ভব। তাই আসুন, আমরা সবাই এই সময়টিকে কাজে লাগাই এবং প্রিয়নবী (স.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তুলি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরটিভি/এসকে