images

ধর্ম

সব ধরনের জাদুর ক্ষতি থেকে বাঁচার আমল

মঙ্গলবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৫ , ০৯:২৪ এএম

জীবনের পথে অনেক সময় মানুষ এমন কিছু অদৃশ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়, যা চিকিৎসা বা দুনিয়াবি উপায়ে সহজে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো বদনজর ও কালো জাদু। হিংসা-ঈর্ষা থেকে উদ্ভূত বদনজর যেমন বাস্তব, তেমনি কারও ক্ষতি সাধনে করা জাদুটোনাও ইসলামে স্বীকৃত একটি বিষয়, যা গুরুতর গোনাহ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন নবী করিম (সা.) বলেছেন, বদনজর লাগা সত্য। (আবু দাউদ : ৩৮৭৯)

অন্য এক বর্ণনায় নবীজি (সা.) তাঁর উম্মতকে জাদু থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে বলেছেন। বোখারি শরিফে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সাতটি ধ্বংসকারী কাজ থেকে তোমরা বিরত থাকো।সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী?

তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু করা, যথার্থ কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করা (যা আল্লাহ হারাম করেছেন), সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা এবং সরল-প্রকৃতির সতী মুমিন নারীদের অপবাদ দেওয়া। (বোখারি : ২৫৭৮)

জাদু ও বদনজর থেকে বাঁচার আমল

কেউ যদি জাদু বা বদনজরের শিকার হয়, অথবা এর ভয় থাকে, তবে ইসলাম সে সম্পর্কে কিছু দোয়া ও আমল শিক্ষা দিয়েছে। নবীজি (সা.) নিজেও আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন এসব অশুভ প্রভাব থেকে।

চলুন, জেনে নিই বদনজর ও কালো জাদুর ক্ষতি থেকে বাঁচার ৫ আমল,

এক. উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় যে ব্যক্তি তিনবার নিচের দোয়াটি পাঠ করবে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না। দোয়াটি হলো, بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্‌মিহি শাইয়্যিন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস-সামায়ি ওয়া-হুয়াস-সামিউল আলিম।

অর্থ : আমি আল্লাহর নাম নিচ্ছি। জমিন ও আসমানের কোনো কিছুই যার নামের বরকতে ক্ষতি সাধন করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (তিরমিজি : ৩৩৮৮)

দুই . সকাল সন্ধ্যার আরেকটি দোয়া أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিনশাররি মা খালাকা।

অর্থ : আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসিলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এই দোয়াটি সন্ধ্যার সময় পড়লে ওই রাতে কোনো সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদি কষ্ট দিতে পারে না। (তিরমিজি : ৩৪৩৭)

তিন . জাদু দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে জিবরাইল আলাইহিস সালাম নবীজিকে (সা.) এই দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়েছিলেন। بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইয়্যুজিকা মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হা-সিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ : আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি, সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি। (মুসলিম : ২১৮৬, তিরমিজি : ৯৭২)

চার . সুরা ফালাক ও নাস এক্ষেত্রে অনেক বেশি উপকারী। সকাল-সন্ধ্যা সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস প্রতিটি তিন বার করে পড়ার পরামর্শ দেন আলেমরা।

পাঁচ . সুরা ফাতেহার অপর নাম হলো সুরা শিফা অর্থাৎ আরোগ্য লাভের সুরা। এই সুরাও পড়া যেতে পারে।

আরটিভি/এসকে