images

ধর্ম

মৃত ব্যক্তির জন্য যে দোয়া পড়বেন

বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:৫৬ এএম

মৃত্যুর পর মানুষের আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তাই শোকের সময় উচ্চস্বরে বিলাপ কিংবা অতিরিক্ত কান্নাকাটি কোনো উপকার আনে না। ইসলামের দৃষ্টিতে এই সময়ে মৃত ব্যক্তির জন্য মাগফিরাত কামনা করা এবং তার ভালো গুণাবলী স্মরণ করাই শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো কাজের আলোচনা করো এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকো। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯০০) অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করা এবং তাঁর ইতিবাচক দিকগুলো স্মরণ করা উত্তম।

এছাড়াও, কারও মৃত্যুর পর তার নিকট উপস্থিত হলে দোয়া করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। হজরত উম্মে সালামাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, তোমরা রোগী বা মৃতের নিকট উপস্থিত হলে উত্তম কথা বলবে, কারণ ফেরেশতারা তোমাদের কথার ওপর আমিন বলেন।

এই সময়ের সুন্নত দোয়া হলো, আল্লাহুম্মাগফিরলি ওয়া লাহু ওয়া আকিবনি মিনহু উকবান হাসানাহ। অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ও তাকে ক্ষমা করুন এবং তার বিনিময়ে উত্তম প্রতিদান দান করুন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৪৪৭)

পবিত্র কোরআনে পূর্ববর্তী নবীগণের দোয়ায় মানুষের জন্য নির্দেশনা মেলে। যেমন, পবিত্র কোরআনেও পূর্ববর্তী নবীগণের দোয়ায় মানুষের জন্য দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। যেমন- হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া: ‘রব্বানাগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! হিসাবের দিনে আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে ক্ষমা করুন। (সুরা ইবরাহিম: ৪১)

হজরত নুহ (আ.)-এর দোয়া: ‘রব্বিগফিরলি ওয়ালিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিমান দাখালা বাইতিয়া মুমিনাও-ওয়ালিল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাত।’ অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে ইমানসহ আমার ঘরে প্রবেশ করেছে তাকে এবং সব মুমিন পুরুষ-নারীকে ক্ষমা করুন। (সুরা নুহ: ২৮)

আরও পড়ুন
janaja

জানাজার নামাজের ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ বিধি-নিষেধ

সুতরাং, শোকের সময়ে অতিরিক্ত কান্নাকাটি নয়, বরং মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করাই ইসলামের শুদ্ধ শিক্ষা এবং সর্বোৎকৃষ্ট করণীয়। এই কাজ মৃতের আত্মার শান্তি এবং পরিবারের জন্য নেক ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য হয়।

আরটিভি/এসকে