images

ধর্ম

শবে মেরাজে বিশেষ কোনো ইবাদত আছে?

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৮:২৯ পিএম

ইসলামের ইতিহাসে শবে মেরাজ বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবনের এক অনন্য ও শ্রেষ্ঠ মুজেজা। শবে মেরাজ শব্দের অর্থ হলো ঊর্ধ্বগমনের রাত। রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে মহানবী (স.) জাগ্রত অবস্থায় মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা এবং সেখান থেকে আরশে আজিমে পৌঁছে আল্লাহর দিদার লাভ করেন। বাংলাদেশে শুক্রবার(১৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে। 

মেরাজের তাৎপর্য ও অলৌকিক সফর এই রাত উম্মতে মুহাম্মদির জন্য অত্যন্ত গুরুত্ববহ। ঊর্ধ্বভ্রমণের আগে প্রিয়নবী (স.) সমস্ত নবীদের নিয়ে নামাজের ইমামতি করেন। এই সফরের প্রতিটি স্তরে তিনি সাতজন বিশিষ্ট নবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সিদরাতুল মুনতাহা পার হয়ে আল্লাহর দিদার লাভের সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই উম্মতের জন্য উপহার হিসেবে আসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান। মেরাজের এই ঐতিহাসিক ঘটনা কোরআন ও হাদিসের অকাট্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত।

তবে রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে এই রাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো আমল বা হুকুম দিয়ে যাননি। এমনকি নবীজির ইন্তেকালের পর ১০০ বছর পর্যন্ত সাহাবায়ে কেরাম জীবিত থাকলেও তারা ২৭ রজবকে আলাদাভাবে উদযাপন করেননি। দ্বীনের যে কাজ রাসুল (স.) ও তার সাহাবীরা করেননি, তাকে সুন্নাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হাদিসসম্মত নয়।

আরও পড়ুন
5

পবিত্র রমজান মাসের সম্ভাব্য তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি

বর্তমানে শবে মেরাজকে কেন্দ্র করে সমাজে শিরনি বা বিশেষ খাবারের আয়োজনের যে প্রচলন দেখা যায়, তার কোনো ভিত্তি ইসলামে নেই। অনেকে নামাজ বা অন্যান্য গুনাহ ত্যাগের চেয়ে শিরনি করাকেই বড় দায়িত্ব মনে করেন। এছাড়া এই দিনে রোজা রাখাকে অনেকে আশুরা বা আরাফার রোজার মতো সুন্নাত মনে করেন যা সঠিক নয়। ইবাদতের নামে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয় যা বিদআতের পর্যায়ভুক্ত হয়।

মেরাজের আসল উদ্দেশ্য হলো এর অন্তর্নিহিত শিক্ষাগুলো জীবনে বাস্তবায়ন করা। বিশেষ করে নিয়মিত নামাজ আদায়, শিরক বর্জন, বাবা-মায়ের সেবা এবং প্রতিবেশীর হক আদায়ের শিক্ষা এখান থেকেই পাওয়া যায়। এছাড়া এতিমের মাল আত্মসাৎ না করা, ব্যভিচার থেকে দূরে থাকা এবং অহংকার বর্জনের মতো নৈতিক বিষয়গুলো মেরাজের ঘটনার বড় শিক্ষা।

রজব মাস থেকেই মূলত রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়। নফল নামাজ বা রোজা যেকোনো সময়ই সওয়াবের কাজ। কেউ যদি আল্লাহপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই রাতে কোরআন তেলাওয়াত বা জিকিরে মশগুল হন তবে তিনি সওয়াব পাবেন। তবে একে বাধ্যতামূলক বা সুন্নাত মনে করা যাবে না। সাধারণ নফল ইবাদত হিসেবে যেকোনো রাতে আল্লাহকে ডাকা যেতে পারে।

আরটিভি/এআর