সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:১৪ পিএম
রোজা কেবল উপবাস নয়, এটি মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং জীবনকে আল্লাহমুখী করে তোলে। ইসলামে রোজার উদ্দেশ্য মানুষের চরিত্র গঠন, আত্মসংযম ও আল্লাহভীতি জাগ্রত করা।
রোজার উল্লেখযোগ্য পাঁচটি উপকারিতা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলোঃ
১. তাক্বওয়া (খোদাভীতি) অর্জন
আল্লাহ তাআলা রোজার বিধান শেষে তাক্বওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ রোজা তাক্বওয়া অর্জনের একটি বড় মাধ্যম। এটি অন্তরকে পাপাচার থেকে বিরত রাখে, আত্মার অবাধ্যতাকে দমন করে এবং মানুষকে ভুল ও অপরাধ থেকে দূরে রাখে।
২. ইবাদতের জন্য সময় তৈরি হয়
দৈনন্দিন জীবনে অতিরিক্ত খাবার-দাবার ও অনর্থক সময় নষ্ট হওয়ার কারণে ইবাদতের সুযোগ কমে যায়। রামাদানে রোজার মাধ্যমে এই সময়গুলো ইবাদতে ব্যয় করা সহজ হয়। ইতিহাসে দেখা যায়, ইবনে তাইমিয়্যা ও ইবনে কাইয়্যিম-এর মতো মনীষীরা এই সময়কে কাজে লাগিয়ে ইসলামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। বলা হয়, ইবনে তাইমিয়্যা যোহর থেকে আসরের মধ্যবর্তী সময়েই ‘আল-আক্বীদাহ আত-তাদমুরিয়া’ রচনা করেন যা আক্বীদাবিষয়ক একটি জটিল গ্রন্থ।
৩. হৃদয়ের সজীবতা লাভ
অতিরিক্ত ভোগ-বিলাস ও অতিভোজন অন্তরকে নিস্তেজ করে তোলে। রোজা মানুষের ভোগস্পৃহা কমিয়ে অন্তরকে আল্লাহমুখী করে। হৃদয় যত দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক কমায়, ততই তা আল্লাহর দিকে ধাবিত হয় এমন কথাই আলেমগণ উল্লেখ করেছেন।
৪. দরিদ্রদের কষ্ট অনুধাবন
রোজা মানুষকে দরিদ্র ও মিসকিনদের ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করায়। এতে সহমর্মিতা ও মানবিকতা জাগ্রত হয়। দরিদ্রদের দৈনন্দিন কষ্টের স্বাদ রোজাদার নিজেও অনুভব করেন, যা সমাজে দান-সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলে।
৫. ধৈর্য ও আত্মিক উন্নতি
রোজা ধৈর্য চর্চার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যমগুলোর একটি। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও নফসের চাহিদা সংযমের মাধ্যমে মানুষ আত্মিকভাবে পরিশুদ্ধ হয়। আলেমদের মতে, রোজা আত্মাকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করে এবং মানবজীবনে আত্মিক উন্নতি সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যা ইমাম গাজালী-সহ বহু মনীষী উল্লেখ করেছেন।
রোজা মানুষকে তাক্বওয়াবান করে, ইবাদতে সময় দেয়, হৃদয়কে সজীব রাখে, সামাজিক সহমর্মিতা বাড়ায় এবং ধৈর্য ও আত্মিক উন্নতির পথে এগিয়ে নেয়।
আরটিভি/এসকে