বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:৪৩ পিএম
ইসলামকে সমগ্র মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তৎকালীন আরব উপদ্বীপের বাইরেও বিভিন্ন রাজা ও শাসকদের কাছে পত্র প্রেরণ করেন। আল্লামা আহমদ ইবনে আলির প্রসিদ্ধ গ্রন্থ সুবহুল আ‘শা ফি সানাআতিল ইনশা এর আলোকে জানা যায়, এসব পত্র মূলত দুই ভাগে বিভক্ত মুসলিম শাসক ও গোত্রপ্রধানদের উদ্দেশে এবং অমুসলিম শাসক ও গোত্রপ্রধানদের উদ্দেশে প্রেরিত পত্র।
অমুসলিম শাসকদের মধ্যে হাবশার নাজ্জাশি, রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াস, পারস্যের সম্রাট কিসরা খসরু পারভেজ, মিসরের শাসক মুকাউকিসসহ বহু নেতা ছিলেন। এসব পত্রে তাওহিদের আহ্বান, ইমান ও সৎকর্মের দাওয়াত, এবং ইসলাম গ্রহণ করলে শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। খ্রিষ্টানদের উদ্দেশে পাঠানো পত্রে হজরত ইসা (আ.)কে আল্লাহর বান্দা ও রাসুল হিসেবে স্বীকারের ভিত্তিতে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। অগ্নিপূজকদের ক্ষেত্রে এক আল্লাহর ইবাদতে ফিরে আসার কথা বলা হয়।
কিসরা খসরু পারভেজের কাছে পাঠানো পত্রে ইসলাম গ্রহণে নিরাপত্তার আশ্বাস এবং অস্বীকৃতিতে পরিণতির সতর্কতা ছিল। ঐতিহাসিকভাবে জানা যায়, তিনি পত্রটি ছিঁড়ে ফেলেন পরবর্তীতে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
মুসলিম শাসক ও গোত্রপ্রধানদের কাছে পাঠানো পত্রে দাওয়াতের চেয়ে প্রশাসনিক ও নৈতিক নির্দেশনা প্রাধান্য পায়। নামাজ, রোজা ও বিশেষভাবে জাকাতের বিধান নিসাব, পরিমাণ ও জাকাতযোগ্য সম্পদের ধরন স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। কিছু পত্রে ভূমি দান, শাসনক্ষমতা বহাল রাখা এবং চুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সপ্তম শতাব্দীতে রোম ও পারস্য এই দুই পরাশক্তির প্রেক্ষাপটে নবীজি (সা.) এর পত্রাবলি কেবল ধর্মীয় নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বব্যাপী শান্তি ও ন্যায়ের বার্তা পৌঁছে দিতে শাসকদের সামনে তিনটি পথ উন্মুক্ত রাখেন ইসলাম গ্রহণ, জিজিয়া প্রদান অথবা সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি। ইয়েমেনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বহু গোত্রের কাছে পত্র পাঠানো হয়; এর ফলে একাধিক প্রতিনিধিদল ইসলাম গ্রহণ করে মদিনায় উপস্থিত হয়।
পত্রগুলোর ভাষা সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও গভীর অর্থবহ। কঠোরতার বদলে কোমলতা ও হৃদয়গ্রাহিতা ছিল এর বৈশিষ্ট্য। প্রতিটি পত্রে প্রেরক হিসেবে ‘আল্লাহর রাসুল’ উপাধিসহ নবীজি (সা.) এর নাম, প্রাপকের উপযুক্ত উপাধি, পরিস্থিতি অনুযায়ী শান্তির সম্ভাষণ এবং শেষে নবুয়তের মোহর সংযুক্ত থাকত যেখানে ওপরের দিকে ‘আল্লাহ’, মাঝে ‘রাসুল’ এবং নিচে ‘মুহাম্মদ’ খোদাই ছিল।
ইতিহাসবিদদের মতে, এই পত্রাবলি ইসলামের দাওয়াতি কৌশল, রাষ্ট্রচিন্তা ও সাহিত্যিক উৎকর্ষের এক অনন্য দলিল যা আজও গবেষণা ও অনুপ্রেরণার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
আরটিভি/এসকে