বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৩:০৫ পিএম
রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও আমাদের দ্বারে হাজির পবিত্র রমজান। মুমিন মুসলমানের কাছে এই মাসটি কেবল উপবাস থাকার নাম নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। রমজানে প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব যেমন সত্তর গুণ বা তারও বেশি বৃদ্ধি পায়, তেমনি সাহরি ও ইফতারের মুহূর্তগুলো দোয়া কবুলের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে যে, ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। তাই দস্তরখানে খাবারের প্রতীক্ষায় শুধু বসে না থেকে এই মূল্যবান সময়গুলো জিকির ও মাসনুন দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করা ঈমানি দায়িত্ব।
১. ইফতারের শুরুতে পড়ার দোয়া
ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে যখন ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় শরীর ক্লান্ত থাকে, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইফতারের শুরুতে একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করা সুন্নাহ।
দোয়াটি হলো: ‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু’।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনারই জন্য রোজা রেখেছি এবং আপনারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৮)
২. ইফতারের পর কৃতজ্ঞতার দোয়া
ইফতার শেষ করার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে রাসুলুল্লাহ (স.) পড়তেন— ‘জাহাবাজ জামাউ, ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ’।
অর্থ: তৃষ্ণা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ (আল্লাহর ইচ্ছায়) পুরস্কারও নির্ধারিত হলো। (সুনানে আবু দাউদ: ২৩৫৭)
৩. সেহরিরসময় বা শেষ রাতের দোয়া
সেহরির শেষ সময়টুকু মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে বিবেচিত। পবিত্র কোরআনেও এই সময়ে ইস্তেগফারকারীদের প্রশংসা করা হয়েছে।
সেহরির সময় ‘আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি’ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁরই দিকে ফিরে আসছি (তওবা করছি)। (সুনানে আবু দাউদ: ১৫১৭; তিরমিজি)
৪. জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া
রমজানে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, তাই এই দোয়াটি পাঠ করার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে; বিশেষ করে সেহরি ও ইফতারের সময়। তাই জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে পানাহ পেতে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাতা, ওয়া আউযুবিকা মিনান নার’ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা উচিত।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নামের আগুন থেকে পানাহ চাচ্ছি। (সুনানে আবু দাউদ: ৭৯২)
৫. ক্ষমা লাভের বিশেষ দোয়া
ক্ষমা পাওয়ার জন্য রমজানের বিশেষ মুহূর্তগুলোতে রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-কে একটি অনন্য দোয়া শিখিয়েছিলেন। দোয়াটি হলো— ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি’।
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৩)
রমজানের প্রতিটি ক্ষণই মর্যাদাপূর্ণ। সেহরি ও ইফতারের সময়টুকুতে আমরা যদি মাসনুন দোয়াগুলোর চর্চা করি, তবে আমাদের রোজা কেবল রুটিনমাফিক না খেয়ে থাকা হবে না, বরং তা হবে এক গভীর আধ্যাত্মিক সাধনা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালের কঠিন সময়ে মুক্তির পাথেয় সংগ্রহ করার এর চেয়ে বড় সুযোগ আর হতে পারে না।
আরটিভি/এআর