images

ধর্ম

ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব, কাকে দেবেন

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৫ এএম

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম যাকাত হলেও পবিত্র রমজান মাসের শেষে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলিমের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব বা অপরিহার্য করা হয়েছে। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয় বরং দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর রোজার ভুলত্রুটি সংশোধন এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এক অনন্য মাধ্যম। 

পবিত্র কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই সাফল্য লাভ করবে সে, যে শুদ্ধ হয়’ (সুরা আলা, আয়াত: ১৪)। 

সদকাতুল ফিতরের প্রধান লক্ষ্য মূলত দুটি। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমত রোজাকালীন অবলতর্ক, অশালীন কথা বা কাজের মাধ্যমে রোজার যে সামান্য ক্ষতি হয় তা পূরণ করা। 

দ্বিতীয়ত, ঈদের আনন্দ যেন কেবল ধনীদের মাঝে সীমাবদ্ধ না থাকে সেজন্য নিঃস্ব ও অভাবী মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা। সাহাবি ইবনে ওমর (রা.) জানিয়েছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর এটি অপরিহার্য করেছেন। যারা ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় যাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তাদের ওপরই ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। 

সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ নিয়ে ইসলামি শরিয়তে নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। খেজুর, পনির, জব ও কিশমিশের মাধ্যমে আদায় করলে ‘এক সা’ বা প্রায় ৩ কেজি ২৭০ গ্রামের মূল্য পরিশোধ করতে হয়। আর যদি গম বা আটা দিয়ে আদায় করা হয়, তবে ‘নিসফে সা’ বা প্রায় ১ কেজি ৬৩৫ গ্রামের বাজারমূল্য প্রদান করতে হয়। 

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ফিতরা আদায়ের সঠিক সময়

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষণা মতে, আমাদের দেশে এই আধা সা-এর পরিমাণ ধরা হয় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সামর্থ্যবানদের উচিত কেবল সর্বনিম্ন মূল্যের গম দিয়ে ফিতরা না দিয়ে কিশমিশ বা পনিরের উচ্চমূল্য অনুযায়ী তা আদায় করা, যাতে দরিদ্ররা বেশি উপকৃত হতে পারে।

ফিতরা আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের নামাজের জন্য ঈদগাহে যাওয়ার আগের মুহূর্তটি। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যেন নামাজের আগেই এটি গরিবের হাতে পৌঁছানো হয়, যাতে তারাও ঈদের খুশিতে শরিক হতে পারে। তবে কোনো কারণে নামাজের আগে আদায় করতে না পারলে ঈদের দিনের যেকোনো সময়ে বা পরবর্তী সময়েও তা আদায় করা সম্ভব। সদকাতুল ফিতর কেবল নিজের পক্ষ থেকেই নয় বরং নিজের অধীনে থাকা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পক্ষ থেকেও অভিভাবককে আদায় করতে হয়।

আমাদের সমাজে অনেকেরই একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে কেবল যাকাতদাতারাই ফিতরা দেবেন। প্রকৃতপক্ষে ফিতরার ক্ষেত্রে যাকাতের মতো এক বছর সম্পদ গচ্ছিত থাকার শর্ত নেই; বরং ঈদের দিনের আর্থিক সচ্ছলতাই এখানে বিবেচ্য। দাতার কাছে যা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট এবং যার মূল্যমান সবচেয়ে বেশি, তা দিয়ে দান করাই হলো সর্বোত্তম। 

আরটিভি/এআর