বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৪৬ পিএম
পবিত্র রমজান মাস আমাদের জন্য প্রতিবছর নিয়ে আসে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুখবর। এ সময় মুসলমানদের বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী করতে দেখা যায়। কেননা এই মাসে কোরআন শরিফ নাজিল শুরু হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ সা. এর ওপর। পবিত্র আল-কুরআন-এ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)।
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন। কিন্তু আজকাল অনেকের মধ্যে একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় যে, সেহরি খাওয়ার পর দিনের বড় একটি অংশ অতিরিক্ত ঘুমের মাধ্যমে কাটিয়ে দেওয়া। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলাম এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেয়?
ইসলাম ঘুমকে স্বাভাবিক প্রয়োজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম। (সুরা আন-নাবা: ৯)। অর্থাৎ ঘুম মানুষের জন্য রহমতস্বরূপ। তবে ইবাদতের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ঘুমে ডুবে থাকা এবং ফরজ-ওয়াজিব আমলে অবহেলা করা ইসলামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
রোজার মাসে বিভিন্নরকমের বিশেষ ইবাদত যেমন, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া অনেক বড় নেক আমল হিসেবে বিবেচিত। তাই এ সময়কে শুধুমাত্র ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলে রোজার আধ্যাত্মিক সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।প্রকৃতপক্ষে ইসলামের দৃষ্টিতে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। সেহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করে সারাদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিলে রোজা হয়ে যাবে। তবে নামাজ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, ওটা ছেড়ে দেওয়ার কারণে গুনাহগার হবে।
রোজা রেখে অতিরিক্ত ঘুম যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে নামাজ কাযা হয়ে যায়, কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক দায়িত্ব অবহেলিত হয়, তাহলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে। কারণ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ এবং তা সময়মতো আদায় করা আবশ্যক। রোজা কোনোভাবেই নামাজ বা অন্যান্য ফরজ দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বরং রোজা মানুষের মাঝে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়।
তাই বলা যায়, রোজা রেখে ঘুম হারাম নয়, কিন্তু অতিরিক্ত ঘুম যা ইবাদত ও দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তা অনুচিত। রোজার প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনই ইসলামের আসল শিক্ষা।
আরটিভি/এমআই