শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ০৭:০৯ পিএম
রমজান মাসের শেষে মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা আদায় করা। ঈদের আনন্দে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত মানুষদের শরিক করার উদ্দেশ্যে এই দান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ফিতরা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—নিজের আপন ভাই বা বোনকে কি ফিতরা দেওয়া যাবে?
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ফিতরা মূলত সেইসব মুসলমানের জন্য নির্ধারিত যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং নিজেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে হিমশিম খান। অর্থাৎ যারা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত, তারাই সাধারণত ফিতরারও উপযুক্ত প্রাপক।
তবে ইসলামী বিধানে কিছু নিকটাত্মীয় রয়েছেন, যাদেরকে জাকাত বা ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়। যেমন—নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা নিজের সন্তান-সন্ততি। কারণ তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের ওপর বর্তায়। ফলে তাদেরকে জাকাত বা ফিতরা দেওয়া দানের আওতায় পড়ে না।
ভাই-বোনের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। শরিয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় একজন ব্যক্তির ওপর তার ভাই বা বোনের ভরণ-পোষণের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব থাকে না। তাই যদি কোনো ভাই বা বোন আর্থিকভাবে দুর্বল হন এবং যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হন, তাহলে তাদেরকে ফিতরা দেওয়া বৈধ।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে দরিদ্র কাউকে সাহায্য করা বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ। এতে একদিকে যেমন দানের সওয়াব পাওয়া যায়, অন্যদিকে আত্মীয়তার বন্ধনও দৃঢ় হয়। তাই অনেক আলেমই মনে করেন, আশপাশে যদি দরিদ্র আত্মীয় থাকেন, তবে তাদেরকে সাহায্য করা আরও উত্তম।
তবে একটি বিষয় এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কোনো ছোট ভাই বা বোন এমন অবস্থায় থাকে যে তার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পরিবারের কারও ওপর বাধ্যতামূলক হয়ে যায়—যেমন অপ্রাপ্তবয়স্ক বা সম্পূর্ণ নির্ভরশীল—তাহলে তাকে ফিতরা দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ তখন তার প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা অভিভাবকের দায়িত্ব হিসেবেই বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে যদি ভাই বা বোন প্রাপ্তবয়স্ক হন এবং আর্থিকভাবে কষ্টে জীবনযাপন করেন, তাহলে তাদেরকে ফিতরা দেওয়া শরিয়তসম্মত। বিশেষ করে যদি তারা প্রকৃত অর্থেই দরিদ্র হন, তাহলে তাদের পাশে দাঁড়ানো ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফিতরা আদায়ের সময় নিয়েও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদের নামাজের আগে ফিতরা আদায় করা উত্তম বলে বিবেচিত হয়, যাতে দরিদ্র মানুষরা ঈদের দিন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পারেন। তবে রমজানের শেষ কয়েক দিন আগেই ফিতরা প্রদান করাও বৈধ।
সব মিলিয়ে ইসলামী বিধান অনুযায়ী বলা যায়, যদি ভাই বা বোন আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন এবং জাকাত বা ফিতরার উপযুক্ত প্রাপক হন, তাহলে তাদেরকে ফিতরা দেওয়া জায়েজ। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি আরও উত্তম হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এতে পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধনও দৃঢ় হয়।
রমজানের শিক্ষা হলো সহমর্মিতা, মানবিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। তাই ফিতরা দেওয়ার সময় নিজের আশপাশের দরিদ্র আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের প্রকৃত চেতনার প্রতিফলন।
আরটিভি/এমএইচজে