শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ , ০৭:২৩ পিএম
রমজান মাসের শেষ দশক মুসলমানদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে কিছু সময় দূরে থেকে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে মনোনিবেশ করাই ইতিকাফের মূল লক্ষ্য। ইসলামের ইতিহাস ও শিক্ষা অনুযায়ী, এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ইতিকাফের মাধ্যমে একজন মুসলমান সাময়িকভাবে পার্থিব ব্যস্ততা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকার সুযোগ পান। নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে তিনি নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ফলে ইতিকাফ শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং এটি মানুষের আত্মিক উন্নতির একটি বিশেষ সুযোগ।
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিয়মিত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ পালন করতেন। তার এই আমল অনুসরণ করেই মুসলমানরা যুগে যুগে ইতিকাফের গুরুত্ব উপলব্ধি করে আসছেন। বিশেষ করে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের জন্য এই সময় মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে মগ্ন থাকার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
ইতিকাফ মানুষের ধৈর্য, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের চর্চা বাড়াতে সহায়তা করে। দৈনন্দিন জীবনের নানা ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও পার্থিব আকর্ষণ থেকে দূরে থেকে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে একজন মানুষ নিজের ভুলত্রুটি নিয়ে ভাবার এবং ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার অঙ্গীকার করার সুযোগ পান।
সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকেও ইতিকাফ গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদকেন্দ্রিক এই ইবাদত মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ধর্মীয় পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে এটি মানুষকে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা— সংযম, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
আরটিভি/এমএইচজে