images

ধর্ম

জুমার দিনের ফজিলত ও করণীয় আমল

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:১৭ পিএম

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। মুসলমানদের জন্য এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে বিবেচিত। তাই জুমাবারের রাত ও দিন উভয়ই বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। এই দিনটিকে ঘিরে রয়েছে নানা আমল, ইবাদত ও আল্লাহর বিশেষ রহমতের ঘোষণা।

পবিত্র কোরআনে জুমার গুরুত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।” (সূরা জুমা: ৯)

হাদিস শরিফেও জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, “মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন।” (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৯৮) আরেক হাদিসে তিনি বলেছেন, “যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়, তার মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে। আর এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে।” (মুসলিম, হাদিস: ৮৫৪)

আরও পড়ুন
hajj0

হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বড় সুখবর

জুমার দিনের একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন। এ প্রসঙ্গে নবী (সা.) বলেছেন, “জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলিম যদি সে সময়ে নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করে, আল্লাহ তা পূরণ করেন।” (বুখারি, হাদিস: ৬৪০০)

জুমার দিনে কিছু বিশেষ আমলের কথাও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, “তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের পাঠ করা দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়।” (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

এছাড়া তিরমিজি শরিফের হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন। তাই জুমার দিনে নামাজ, দোয়া, দরুদ পাঠসহ অন্যান্য নেক আমলে বেশি মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন আলেমরা।

জুমার দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনা করে প্রতিটি মুসলিমের উচিত এই দিনটিকে ইবাদত-বন্দেগি ও কল্যাণমূলক কাজে লাগানো। এতে যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, তেমনি আখিরাতের জন্যও সওয়াব সঞ্চয় হয়।

আরটিভি/জেএমএ