মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৩৫ পিএম
১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে বাঙালির মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। নতুন বছর উপলক্ষে অনেকেই জীবনে পরিবর্তনের সংকল্প গ্রহণ করেন। তবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে একজন মুমিনের জন্য নতুন বছর কেবল ক্যালেন্ডার পরিবর্তন নয়, বরং আত্মসমালোচনা, ইবাদত বৃদ্ধি এবং জীবনকে আরও শুদ্ধ করার একটি সুযোগ।
ইসলামি আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং নিজের জীবনকে আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করা একজন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। এই প্রেক্ষাপটে নতুন বছরে করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
নতুন বছরে একজন মুমিনের করণীয়
আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা
নতুন বছরের শুরুতে বিগত বছরের ভুল-ত্রুটি ও গুনাহ থেকে ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনের সূরা আল-ফুরকানে (২৫:৭৪) আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশনা রয়েছে।
আত্মশুদ্ধির সংকল্প গ্রহণ
একজন মুমিনের উচিত নিজের আখলাক ও জীবনযাত্রা উন্নত করার সংকল্প নেওয়া। পাপ থেকে দূরে থেকে সৎকর্মে নিজেকে নিয়োজিত করা ঈমানি দায়িত্বের অংশ।
ইবাদত ও ঈমান বৃদ্ধি করা
নামাজ, রোজা, দান-সদকা এবং অন্যান্য ইবাদতের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার পরিকল্পনা করা নতুন বছরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।
সময়কে যথাযথভাবে ব্যবহার করা
হাদিসে সময় ও সুস্থতাকে বড় নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই ইবাদত, কাজ ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনে সময়ের সদ্ব্যবহার করা উচিত।
পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব পালন
ইসলামে পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন বছরে এই দায়িত্বগুলো আরও সচেতনভাবে পালন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নতুন বছরে একজন মুমিনের বর্জনীয়
অশ্লীলতা ও অনৈতিক আনন্দ-উল্লাস
নতুন বছর উপলক্ষে অশ্লীলতা, মাদক বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা ইসলামী জীবনধারার পরিপন্থী।
নববর্ষকে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে গ্রহণ না করা
ইসলামী দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী নববর্ষকে ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালন করার কোনো নির্দেশনা নেই। তাই এটিকে ধর্মীয় রূপ দেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়।
অপচয় ও অতিরিক্ত খরচ
অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অপচয় ইসলামে নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত। সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সংযম বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অহংকার ও আত্মগর্ব পরিহার
নিজের উন্নতিকে কেন্দ্র করে অহংকার করা ইসলামে নিন্দনীয়। বিনয় ও নম্রতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অতীত থেকে শিক্ষা না নেওয়া
বিগত বছরের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করলে একই ভুল পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থাকে। তাই আত্মসমালোচনার মাধ্যমে সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন বছর একজন মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধি, ইবাদত বৃদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি সুযোগ। সময়ের যথাযথ ব্যবহার, সৎকর্মে অগ্রগতি এবং নৈতিক জীবন গঠনের মাধ্যমে নতুন বছরকে অর্থবহ করে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
আরটিভি/এসকে