images

ধর্ম

শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা কী পুত্রবধূর ওপর ফরজ?

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:১০ পিএম

শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালো ব্যবহার, সহানুভূতি ও ত্যাগের মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে। তবে এই সম্পর্ককে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব নাকি নৈতিক কর্তব্য। এ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্বামী–স্ত্রীর অধিকার ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে শরিয়ত একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণ করেছে। কিছু বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবার কিছু বিষয় নৈতিকতা ও মানবিকতার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ফিকহবিদদের মতে, পুত্রবধূর জন্য শ্বশুর ও শাশুড়ির সেবা করা শরিয়তের দৃষ্টিতে ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ, তিনি যদি সেবা না করেন, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তিনি গুনাহগার হবেন না।

তবে আলেমদের মতে, নৈতিকতা ও পারিবারিক সৌহার্দ্যের দিক থেকে শ্বশুর–শাশুড়িকে নিজের বাবা–মার মতো সম্মান করা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা একজন পুত্রবধূর জন্য অত্যন্ত উত্তম কাজ।

আরও পড়ুন
Web-Image

গোসলের পর ওজু না করলে নামাজ হবে?

অন্যদিকে স্বামীর ওপরও শরিয়ত স্ত্রীকে জোর করে নিজের বাবা–মার সেবায় বাধ্য করার দায়িত্ব দেয়নি। বরং নিজের বাবা–মায়ের ভরণপোষণ ও দেখভালের মূল দায়িত্ব স্বামীর ওপরই বর্তায়।

তবে ভালোবাসা, পারিবারিক শান্তি ও সম্পর্কের মাধুর্য বজায় রাখতে স্বামী স্ত্রীকে উৎসাহিত করতে পারে। কিন্তু চাপ বা জোর করতে পারে না।

আলেমদের মতে, পারিবারিক জীবনে শুধু ফরজ আর না ফরজ দিয়ে সম্পর্ক বিচার করলে দাম্পত্য জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক আচরণই সুখী সংসারের মূল ভিত্তি।

এ বিষয়ে ইসলামি মনীষীদের পরামর্শ হলো, শ্বশুর–শাশুড়িকে সম্মান করা, তাদের খোঁজখবর রাখা এবং সম্ভব হলে সেবা করা নৈতিকভাবে অত্যন্ত উত্তম কাজ। একইভাবে শ্বশুর–শাশুড়িরও উচিত পুত্রবধূকে কন্যার মতো ভালোবাসা ও সম্মান দেওয়া।

শ্বশুর–শাশুড়ির সেবা শরিয়তের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব না হলেও পারিবারিক শান্তি ও সম্পর্কের সৌন্দর্যের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত।


আরটিভি/জেএমএ