সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ১১:১২ পিএম
অনেক নারী আছেন, যারা জানতে চান যে, আমাদের কোনো আয়-ইনকাম নেই। তাহলে কি আমাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে?
আয়-ইনকাম এক জিনিস আর কুরবানি ওয়াজিব হওয়া আরেক জিনিস। শুধু আয়-ইনকাম থাকলেই কুরবানি ওয়াজিব হয় না। বরং নারীর কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য রয়েছে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়াসহ কয়েকটি শর্ত। তাহলো—
যে নারী ঈদুল আজহার দিনগুলোতে বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকীম এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারিণী হন— অথবা তার প্রয়োজনাতিরিক্ত এমন পরিমাণ অর্থ-সম্পদ বা সামগ্রী থাকে, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার সমপরিমাণ হয়— তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব ও আবশ্যক। তাই কোনো নারী যদি এসব শর্তের অধিকারিণী হন, তবে তাঁর জন্য প্রতি বছর কুরবানি আদায় করা জরুরি।
শরঈ দলিল—
وشرائطہا الإسلام والإقامۃ والیسار الذی یتعلق بہ وجوب صدقۃ الفطر لا الذکور فتجب علی الأنثیٰ ۔ قولہ : (الیسار) بأن ملک مأتي درہم أو عرضا یساویہا غیر مسکنۃ …. یحتاجہ إلی أن یذبح الأضحیۃ ۔ الدر المختار مع رد المحتار: (کتاب الأضحیۃ، 312/6، ط: سعید)
“কুরবানির ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো— মুসলিম হওয়া, মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানকারী) হওয়া এবং এমন সামর্থ্যবান হওয়া, যার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়। পুরুষ হওয়া শর্ত নয়; তাই নারীর উপরও কুরবানি ওয়াজিব হয়।
‘সামর্থ্যবান’ বলতে বোঝানো হয়েছে— কারো কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত এমন সম্পদ থাকা, যার মূল্য দুইশত দিরহামের সমপরিমাণ। যেমন— অতিরিক্ত মাল-সম্পদ, ব্যবসার পণ্য ইত্যাদি। তাহলে তার উপর কুরবানি করা আবশ্যক হবে।’ (দুররুল মুখতার, রুদ্দুল মুহতার)
وهي واجبة على الحر المسلم المالك لمقدار النصاب فاضلاً عن حوائجه الأصلية، كذا في الاختيار شرح المختار، ولايعتبر فيه وصف النماء، ويتعلق بهذا النصاب وجوب الأضحية، ووجوب نفقة الأقارب، هكذا في فتاوى قاضي خان. الفتاوى الهندية (1/ 191):
‘কুরবানি ওয়াজিব হয় এমন স্বাধীন মুসলিমের উপর, যে নিজের মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক। ‘ইখতিয়ার শরহুল মুখতার’ গ্রন্থেও এভাবেই উল্লেখ আছে। এ নিসাবের ক্ষেত্রে সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার উপযোগী হওয়া শর্ত নয়। আর এই নিসাবের সাথেই কুরবানি ওয়াজিব হওয়া এবং আত্মীয়স্বজনের ভরণ-পোষণের কিছু বিধান সম্পর্কিত। ‘ফাতাওয়া কাজী খান’-এও এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।’ (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া)
আরটিভি/এমএস/এসআর