বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০১:৫৯ পিএম
পবিত্র কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি আত্মত্যাগের মহান শিক্ষা পাওয়া যায়। হযরত আদম (আ.)–এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের সময় থেকেই কোরবানির সূচনা। পরে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)–এর আত্মত্যাগের ঘটনা কোরবানির ইতিহাসকে আরও মহিমান্বিত করে তোলে।
কোরবানি ঘিরে প্রতিবছর মুসলমানদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো—দুই ভাই মিলে এক ভাগে কোরবানি দেওয়া জায়েজ কি না।
ফুকাহায়ে কেরামের মতে, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বায় একাধিক ব্যক্তি শরিক হয়ে কোরবানি দিতে পারবেন না। এসব পশু শুধু একজনের পক্ষ থেকেই কোরবানি করতে হয়।
আর গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। তবে একটি ভাগ বা একটি নামে দুইজন একসঙ্গে শরিক হতে পারবেন না। এমনকি তারা যদি একই পরিবারের দুই ভাইও হন, তবুও এক ভাগে যৌথভাবে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
যদি দুই ভাই একসঙ্গে কোরবানি করতে চান, তাহলে একজনের নামে কোরবানি হবে এবং অন্যজন তাকে নিজের অংশের টাকা বা পশুর মালিকানা দিয়ে দেবেন। এরপর সেই ব্যক্তির নামেই কোরবানি আদায় হবে।
তবে কোরবানির মাংস সবাই মিলে খেতে কোনো সমস্যা নেই। যৌথ পরিবারে একসঙ্গে মাংস ভাগ করে খাওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ।
এদিকে, যদি দুই ভাইয়ের ওপরই কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে, তাহলে প্রত্যেককে আলাদাভাবে কোরবানি দিতে হবে। অর্থাৎ একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা কিংবা গরু, মহিষ বা উটের অন্তত এক সপ্তমাংশ আলাদা নামে কোরবানি করতে হবে।
এক নামে দুইজন শরিক হলে শুধু তাদের কোরবানি নয়, গরুর অন্য অংশীদারদের কোরবানিও শুদ্ধ হবে না বলে সতর্ক করেছেন আলেমরা।
এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, হযরত জাবের (রা.) বলেন—
“আমরা আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে হজের ইহরাম বেঁধে রওয়ানা হলাম। তিনি উট ও গরু কোরবানির জন্য সাতজন করে শরিক হওয়ার নির্দেশ দিলেন।” (মুসলিম: ১৩১৮, ৩০৪৯)
তাই কোরবানি আদায়ের আগে শরিয়তের বিধান জেনে নেওয়া জরুরি।
আরটিভি/জেএমএ