বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৮:৩৯ পিএম
ইসলামি শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কোরবানি। এটি ফজিলতপূর্ণ আমলও। এতে আছে আত্মত্যাগের মহিমা। আল্লাহতে পূর্ণ সমার্পণের সুযোগ।
কোরবানি অর্থ কাছে যাওয়া বা নৈকট্য অর্জন করা, ত্যাগ স্বীকার করা। স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের পক্ষ থেকে একটি করে কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। যদি সে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়। নিসাব হলো ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন অতিরিক্তি সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা ও ব্যবসার পণ্য বা সম্পদের মালিক হওয়া।
কোরবানি করতে হবে আল্লাহর নামে। আল্লাহর খুশির জন্য কোরবানি করলে প্রতিদান পাওয়া যাবে। আল্লাহর কাছে মানুষের তাকওয়া পৌঁছায়, খোদাভীতি পৌঁছায়। পশুর গোশত পৌঁছায় না। আল্লাহ বলেন, আল্লাহর কাছে ওগুলোর না গোশত পৌঁছায়, আর না রক্ত পৌঁছে, বরং তার কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)
আল্লাহ বলেন, তুমি তোমার প্রতিপালকের জন্য নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো। (সুরা কাউসার, আয়াত: ২)। গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানি করলে কোরবানি হবে না।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) দশ বছর মদিনায় ছিলেন। তিনি প্রতিবছরই কোরবানি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে না আসে। (হাদিস)
একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে প্রত্যেকের আলাদা কোরবানি দিতে হবে। কোরবানির পশু যে কোনো মুসলিম নারী-পুরুষ জবাই করতে পারেন। কোরবানির গোশত ধনী-গরিব সবাই খেতে পারেন। সুন্নত হলো, কিছু অংশ আত্মীয়স্বজন, কিছু অংশ গরিব পাড়া-প্রতিবেশী ও কিছু অংশ নিজের পরিবারের জন্য রাখা।
আরটিভি/এমএ