শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০৮:৪৯ এএম
ঈদুল আজহায় কোরবানি মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে প্রতি বছরই অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে, কোরবানির গোশত দিয়ে কি বিয়ে বা অন্য অনুষ্ঠানে মেহমানদারি করা জায়েজ? ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি করার পর সেই গোশত দিয়ে বিয়ে, ওয়ালিমা বা অন্য যেকোনো বৈধ অনুষ্ঠানে অতিথি আপ্যায়ন করা সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে কোরবানির কোনো ক্ষতি হয় না।
তবে আলেমরা বলছেন, এখানে নিয়ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে সামাজিক মর্যাদা দেখানো, লোক দেখানো বা অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্দেশ্যে কোরবানি করে, তাহলে সেই কোরবানি সহিহ হবে না। কারণ কোরবানি একটি ইবাদত, আর সব ইবাদতের ভিত্তি হলো বিশুদ্ধ নিয়ত।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
«لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ»
অর্থাৎ, “আল্লাহর কাছে পৌঁছে না কোরবানির পশুর গোশত কিংবা রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।” — (সুরা আল-হজ: ৩৭)
আরও বলা হয়েছে—
«فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ»
অর্থাৎ, “তোমরা তা থেকে খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রদেরও খাওয়াও।” — (সুরা আল-হজ: ২৮)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, কোরবানির গোশত নিজে খাওয়া এবং অন্যকে খাওয়ানো— দুটিই বৈধ।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
«إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى»
অর্থাৎ, “সব আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিদান পাবে।” — (বুখারি: ১)
কোরবানির আসল শিক্ষা হলো ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য। তাই কোরবানিকে সামাজিক প্রতিযোগিতা বা লোক দেখানোর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না রেখে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।
কোরবানির প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ফুটে ওঠে, যখন এর মাধ্যমে গরিব-অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটে এবং সমাজে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য ছড়িয়ে পড়ে।
আরটিভি/জেএমএ