বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ১০:৩৪ এএম
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে আদায় করা হয়। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে—কোরবানি না করে সেই অর্থ গরিবদের দান করা যাবে কি?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর নির্ধারিত দিনে অর্থাৎ ১০, ১১ ও ১২ জিলহজের মধ্যে কোরবানি করা ওয়াজিব। এ সময় কোরবানির পরিবর্তে শুধু অর্থ দান করলে কোরবানি আদায় হবে না।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“আল্লাহর কাছে কোরবানির দিনগুলোতে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো কোরবানি।” (তিরমিজি, হাদিস : ১৪৯৩)
ইসলামি ফিকহবিদদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত দিনে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করে তার সমমূল্য দান করলে তা কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ কোরবানি একটি নির্দিষ্ট ইবাদত, যা পশু জবাইয়ের মাধ্যমেই আদায় করতে হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষের সময়ও তিনি কোরবানি বন্ধ করেননি; বরং কোরবানি আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে গোশত সংরক্ষণের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। (বুখারি, হাদিস : ৫৫৬৯; মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৪)
ইসলামি স্কলারদের মতে, কোরবানি ও দান-সদকা দুটি আলাদা ইবাদত। একটি অন্যটির বিকল্প নয়। তাই কোরবানি বাদ দিয়ে শুধু দান করলে ওয়াজিব আদায় হবে না।
তবে কোরবানির সঙ্গে দান করা উত্তম। কেউ চাইলে কোরবানির পশুর গোশত গরিবদের মধ্যে বণ্টন করতে পারেন বা কোরবানির বাজেটের অতিরিক্ত অংশ দান করতে পারেন।
অর্থাৎ, কোরবানি আলাদা ইবাদত হিসেবে আদায় করতে হবে, আর দান-সদকা আলাদা নেক আমল হিসেবে করা যেতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ