বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ০৬:৫৯ পিএম
ইসলামে কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। প্রতি বছর জিলহজ মাসে সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে মৃত পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া জায়েজ কি না।
ইসলামি শরিয়তের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করা জায়েজ এবং এটি সওয়াবের কাজ। আলেমদের মতে, যেভাবে মৃত ব্যক্তির জন্য দান-সদকা বা হজের ব্যবস্থা করা যায়, একইভাবে তাদের পক্ষ থেকে কোরবানিও করা যেতে পারে।
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ শেখ ইবনে বাজ (রহ.) এবং সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির মত অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি বৈধ। ইসলামি ফিকহবিদরা এটিকে মৃত ব্যক্তির জন্য উত্তম সদকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকার জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, মৃত ব্যক্তি যদি কোরবানির জন্য কোনো ওসিয়ত না করে থাকেন, তাহলে তার নামে কোরবানি নফল হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে কোরবানির গোশত স্বাভাবিক নিয়মে নিজেরা খেতে পারবেন এবং অন্যদের মধ্যেও বিতরণ করা যাবে।
তবে মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত করে যান এবং তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে ওয়ারিশরা কোরবানি আদায় করেন, তাহলে সেই কোরবানির গোশত নিজেদের জন্য খাওয়া বৈধ হবে না। তা গরিব ও অসহায়দের মধ্যে সদকা করে দিতে হবে।
অন্যদিকে, ওয়ারিশরা যদি নিজেদের অর্থ দিয়ে মৃত ব্যক্তির ওসিয়ত পূরণে কোরবানি করেন, তাহলে সেই গোশত নিজেরাও খেতে পারবেন এবং অন্যদেরও খাওয়াতে পারবেন।
এ বিষয়ে ইসলামি গ্রন্থ মুসনাদে আহমাদ, ইলাউস সুনান, রদ্দুল মুহতার ও কাজিখানসহ বিভিন্ন কিতাবে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
মুফতি আবদুর রহমান আরও বলেন, মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানির পশু সাধারণ নিয়মেই নির্ধারিত স্থানে জবেহ করতে হবে। কবরের পাশে গিয়ে পশু জবেহ করার কোনো বিধান ইসলামি শরিয়তে নেই।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মানুষ যখন মারা যায়, তখন তার তিনটি আমল ব্যতীত সব আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আমল তিনটি হলো, সদকায়ে জারিয়া, ইলম (যা দ্বারা উপকার হয়) এবং নেক সন্তান। (মুসলিম : ৪০৭৭)
আলেমদের মতে, মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি সেই নেক আমল ও সদকার অন্তর্ভুক্ত, যার সওয়াব আল্লাহ চাইলে মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেন।
আরটিভি/এসকেডি