images

ধর্ম

পশু জবাইয়ের সময় শরিকদের নাম বলা আবশ্যক কি না

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ , ০৫:১৪ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি করা নিয়ে বিভিন্ন মাসআলার বিষয়ে মুসলমানদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় হলো- শরিকি কোরবানির পশু জবাইয়ের সময় সাত শরিকের নাম একে একে বলা বা তালিকা পাঠ করা শরিয়তসম্মত কি না। 

কুরআন-সুন্নতে এবং সাহাবা-তাবেয়ীন ও ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্যের বাইরে নিজ থেকে নতুন কোনো নিয়ম বা বিধান আবিষ্কারের সুযোগ নেই। কেউ নতুন কোনো নিয়ম চালু করলেও শরিয়তের দৃষ্টিতে তা পরিত্যাজ্য ও ভুল বলে গণ্য হবে।

এ ধরনের কোরবানির ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে একটি ভুল প্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, কোরবানির পশুকে জবাইয়ের জন্য শোয়ানোর পর জবাই বিলম্বিত করে শরিকদের নামের তালিকা পাঠ করা। শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি একটি অপ্রয়োজনীয় কাজ। কারণ কোরবানিদাতারা মনে মনে যে পশু কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, সেটিই যথেষ্ট। আলাদা করে শরিকদের নাম পাঠ করার কোনো প্রয়োজন নেই। (কিতাবুল আছল, ইমাম মুহাম্মদ ৫/৪০৬; শরহু মুখতাসারিল কারখি: ৬/৩৮২; খিযানাতুল আকমাল ৩/৫১২; আলমুহিতুর রাযাবি : ৬/৬২)

আরও পড়ুন
uuuui

ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার নিয়ম ও নিয়ত

আর পশুকে শুইয়ে রেখে এভাবে নামের তালিকা পাঠ করার কারণে পশুকে অতিরিক্ত কষ্ট দেয়া হয়। কোনো কোনো এলাকায় নামের তালিকা পড়তে গিয়ে জবাইয়ে যথেষ্ট বিলম্ব হয়, যা পশুর জন্য কষ্টদায়ক। অথচ হাদিস শরিফে জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কষ্ট দিতে নিষেধ করা হয়েছে।
 
হজরত শাদ্দাদ ইবনে আউস রা. বর্ণনা করেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 
 
إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ، وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ، وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ، فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ
 
মহান আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের ওপর ইহসান অত্যাবশ্যক করেছেন। অতএব তোমরা যখন (কিসাস ও হুদুদের ক্ষেত্রে কাউকে) হত্যা করবে, দয়ার্দ্রতার সঙ্গেই হত্যা করবে; আর যখন (পশু) জবাই করবে, দয়ার সঙ্গে জবাই করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন (জবাইয়ের আগে) ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবাইকৃত জন্তুকে স্বস্তি দেয়। (মুসলিম, হাদিস: ১৯৫৫)
 
ফকীহগণ বলেছেন, জবাইয়ের ক্ষেত্রে পশুকে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কষ্ট দেয়া নিষিদ্ধ। (আল-মুজতাবা: ৫/৩০; জামিউর রুমুয ৩/৩৪৪; রদ্দুল মুহতার ৬/২৯৬; তাকমিলা ফাতহিল মুলহিম ৩/৩০৩)

আরটিভি/এমএম