মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ১১:৫৭ এএম
মৃত্যুর পর মানুষের প্রথম ধাপ হলো কবর, যা আখিরাতের যাত্রার সূচনা। ইসলামে কবরকে বলা হয়েছে পরকালের প্রথম পরীক্ষা ক্ষেত্র। এখানে সফল হতে পারলে পরবর্তী ধাপগুলো সহজ হবে, আর ব্যর্থ হলে আখিরাতের জীবন কঠিন হয়ে যাবে।
হাদিসে এসেছে, ইসলামের ইতিহাসে তৃতীয় খলিফা এবং বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম প্রিয় সাহাবি হযরত উসমান (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“কবর আখিরাতের প্রথম ধাপ। যে ব্যক্তি এতে সফল হবে, তার পরের ধাপগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে এখানে ব্যর্থ হবে, তার পরের ধাপগুলো আরও কঠিন হবে।” (সুনানে তিরমিজি: ২৩০৮)
কবরে যে তিনটি প্রশ্ন করা হবে
কবরের ভেতরে প্রতিটি মানুষকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হবে—
১. তোমার রব কে?
এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারবে কেবল সেই ব্যক্তি, যে দুনিয়াতে আল্লাহকে একমাত্র প্রতিপালক হিসেবে মেনে চলেছে। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুকে রব হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা উত্তর দিতে পারবে না।
কোরআনে এসেছে—
“তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও ধর্মগুরুদের রব বানিয়ে নিয়েছে…” (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩১)
২. তোমার দীন কী?
যারা দুনিয়াতে ইসলামকে পূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারাই এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। আর যারা অন্য বিধানকে জীবনব্যবস্থা বানিয়েছে, তারা বিভ্রান্ত হয়ে যাবে।
আল্লাহ বলেন—
“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন গ্রহণ করবে, তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না…” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫)
৩. তোমাদের মধ্যে প্রেরিত ব্যক্তি কে?
এখানে প্রশ্ন করা হবে—তোমার নবী কে ছিল? তুমি কার অনুসরণ করেছ?
যারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করেছে, তারাই সঠিক উত্তর দিতে পারবে।
হাদিসে এসেছে, যারা এই তিন প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেবে, আকাশ থেকে ঘোষণা আসবে—
“আমার বান্দা সত্য বলেছে। তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।”
এরপর তার কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং জান্নাতের শান্তি তার কাছে আসতে থাকবে। (মুসনাদ আহমদ, মিশকাত: ১৫৪২)
কবরের এই তিনটি প্রশ্নই মানুষের ঈমান, আমল ও জীবনের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করবে। তাই দুনিয়ার জীবনেই আল্লাহ, ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা মেনে চলাই হবে পরকালের সফলতার আসল প্রস্তুতি।
আরটিভি/জেএমএ