images

ধর্ম

মায়ের সেবক হওয়া সন্তানের জন্য নবীজির সুসংবাদ

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৯:২৭ পিএম

ইসলাম মাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। তার মর্যাদাকে মহিমান্বিত করেছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভধারণ করে। তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার শোকরিয়া ও তোমার মা-বাবার শোকরিয়া আদায় করো। (সুরা লোকমান, আয়াত : ১৪)

সন্তানের জন্য তুলনামূলকভাবে মা-ই বেশি ত্যাগ স্বীকার করেন। গর্ভধারণ, দুগ্ধপান ও রাত জেগে সন্তানের তত্ত্বাবধানসহ বিভিন্ন কষ্ট একমাত্র মা-ই সহ্য করেন। 

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, আমি মানুষকে মা-বাবার সঙ্গে সদাচারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতি কষ্টে গর্ভধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে প্রসব করেছে। তার গর্ভধারণ ও দুগ্ধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌঁছে এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন বলে- হে আমার রব! আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার ও আমার মা-বাবার ওপর যে নেয়ামত দান করেছো, তার যেনো কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি। আমি যেনো ভালো কাজ করতে পারি, যা তুমি পছন্দ করো। আমার জন্য তুমি আমার বংশধরদের মধ্যে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে তওবা করলাম। আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত। (সুরা আহকাফ, আয়াত : ১৫)

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, মা-বাবাই হলো তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১)

আরও পড়ুন
msq

মসজিদে বসে থাকার ফজিলত

অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, যখন কোনো অনুগত সন্তান নিজের মা-বাবার দিকে অনুগ্রহের নজরে দেখে, আল্লাহতায়ালা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ৪২১)

মা হিসেবে ইসলামে একজন নারীর অবস্থান অকল্পনীয়। ইসলামে বাবার চেয়ে মায়ের মর্যাদা তিনগুণ বেশি। পবিত্র কোরআনে মায়ের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করে মাকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তার সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না এবং পিতামাতার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৬)

এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.) আমার সর্বোত্তম ব্যবহারের হকদার কে? রাসুল (সা.) বললেন, তোমার মা। লোকটি আবার বলল, অতঃপর কে? রাসুল (সা.) বললেন, তোমার মা। লোকটি আবার বলল, অতঃপর কে? রাসুল (সা.) বললেন, তোমার মা। লোকটি আবার বলল, তারপর কে? রাসুল (সা.) বললেন, অতঃপর তোমার পিতা। (বুখারি : ৫৫১৪, মুসলিম : ৪৬২১)। 

পিতামাতার সেবা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত। এর মাধ্যমে জান্নাতের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন—

নামাজ সঠিক সময়ে আদায় করা এবং পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা আমলগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম আমল। (বুখারি : ৫২৭ মুসলিম : ৮৫, তিরমিজি : ১৭৩)। 

আরটিভি/এমএম