বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ , ০১:১০ পিএম
ইসলামে একাধিক বিবাহ বা বহুবিবাহের বিধানকে অনেকেই ভুলভাবে ব্যক্তিগত ভোগবিলাস বা সামাজিক ট্রেন্ড হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন বলে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় আলোচনায় উঠে এসেছে। তবে আলেম ও ইসলামি ব্যাখ্যাকারীরা বলছেন, এটি কোনো রোমান্টিক স্বাধীনতা নয়। বরং কঠোর শর্তসাপেক্ষ একটি সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্বপূর্ণ বিধান।
কোরআনের সুরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতের আলোকে বলা হয়, ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও এর মূল শর্ত হলো ন্যায়বিচার বা ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একজন স্ত্রীতেই সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, ইসলাম বহুবিবাহকে সমাজে বিধবা, এতিম ও অসহায় নারীদের সুরক্ষা এবং কিছু সামাজিক সংকট মোকাবিলার প্রেক্ষাপটে অনুমোদন দিয়েছে। তবে এটি কখনোই প্রবৃত্তি বা ভোগবিলাসের সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয়।
হাদিসের আলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি একাধিক স্ত্রীর মধ্যে সমতা বজায় না রাখে, তবে পরকালে এর জন্য কঠিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, সন্তানদের লালন-পালন এবং স্ত্রীর অধিকার রক্ষার বিষয়টিকেও ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আলোচনায় আরও বলা হয়, ইসলামি দৃষ্টিতে প্রকৃত শক্তিশালী মানুষ সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফস বা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। পারিবারিক দায়িত্ব পালন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাকে ইসলামি জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বহুবিবাহের মতো বিষয়কে আবেগ বা সামাজিক ফ্যান্টাসি হিসেবে না দেখে কোরআন ও সুন্নাহর ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝা জরুরি। অন্যথায় পারিবারিক অশান্তি, নারীর প্রতি অবিচার এবং সন্তানের মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে ইসলামে বহুবিবাহকে একটি অনুমোদিত কিন্তু কঠোর শর্তাধীন দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ইনসাফ, তাকওয়া ও জবাবদিহিই মূল ভিত্তি।
আরটিভি/এসকে