images

ধর্ম

যে ৩ আমলে বিয়ে হয় সহজে

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ১০:৪০ পিএম

বিয়ে হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বৈধ বিধান। কিন্তু সমাজের নানান নিয়মের ভেড়াজালের মধ্যে পড়ে অনেক যুবক-যুবতি ঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারে না। ফলে তারা মনোকষ্টে ভোগে। আবার কেউ কেউ বিয়ে করতে চাইলেও পছন্দ মতো পাত্র কিংবা পাত্রী না পাওয়ায় বিয়ে হয় না। বিয়ে করা যুবক-যুবতীদের জন্য ক্ষেত্র ভেদে ফরজ আবার কখনও সুন্নত।

বিয়েতে রয়েছে প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তার (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখেন, তাদেরকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে উৎসাহিত করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘হে যুব সমাজ, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে, তাদের বিয়ে করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতাকারী।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

বিয়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। যে আমার সুন্নত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিয়ে করো। কারণ, আমি উম্মতের সংখ্যা নিয়ে হাশরের মাঠে গর্ব করব।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৮৪৬)

আরও পড়ুন
Web-Image

দেশে ফিরলেন ৫৭ হাজার ৬৯৯ হাজি

অনেকেই আছেন, উপযুক্ত সময়ে বিয়ে করতে চান। কিন্তু দৃশ্য বা অদৃশ্য নানা কারণে বিয়ে আটকে থাকে। তারা এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এদিকে সঠিক সময়ে বিয়ে করতে না পারলে গুনাহ হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও থাকে। চেপে ধরে নানাবিধ দুশ্চিন্তাও। তাই দ্রুত বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। করতে হবে কিছু আমলও। এখানে দ্রুত বিয়ে হওয়ার তিনটি আমল উল্লেখ করা হলো—

১. দোয়া করা

বান্দাহর দোয়া আল্লাহর কাছে খুব পছন্দনীয়। আল্লাহ চান, বান্দা যে কোনো প্রয়োজনে তার শরণাপন্ন হোক। তার কাছে দোয়া করুক। আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দেন। তিনি খুশি হন। দোয়া কবুল করেন। তাই দ্রুত বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। কোরআনে আছে, ‘এরপর তাদের প্রতিপালক তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলেন, আমি তোমাদের মধ্যে কর্মে নিষ্ঠ কোনো পুরুষ বা নারীর কর্ম বিফল করি না। তোমরা একে অপরের অংশ।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৬)

আরও পড়ুন
98774566

পবিত্র আশুরার তারিখ ঘোষণা

২. একটি দোয়া পড়া

দ্রুত বিয়ের জন্য কোরআনে বর্ণিত একটি দোয়া বেশি বেশি পড়া যেতে পারে। দোয়াটি ফরজ ও নফল নামাজের পর পড়া যেতে পারে। নামাজ ছাড়াও পড়া যায়। দোয়াটি হলো—

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিইয়াতিনা কুররাতা আইউন, ওয়া জা আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা আমাদের চোখ শীতলকারী হবে। আমাদের আল্লাহভীরুদের জন্য আদর্শ করুন। (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৭৪)

৩. নফল নামাজ পড়া

নানা প্রতিকূল ও কঠিন পরিস্থিতিতে নফল নামাজ পড়তেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। সংকটময় সময়ে নামাজই ছিল মহানবীর প্রথম অবলম্বন। তিনি নামাজে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। মনের কথা বলতেন। প্রত্যাশার কথা জানাতেন। তাই দ্রুত বিয়ের জন্য সালাতুল হাজত (প্রয়োজন পূরণের নামাজ) পড়া উত্তম আমল। নামাজ শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। হাদিসে আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন, তখন তিনি নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)

আরটিভি/এমএম