images

ধর্ম

জুমার দিনের ৬ আমলে মিলবে অশেষ রহমত ও ফজিলত

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ১২:৩৫ পিএম

ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন বলা হয়েছে। মুসলমানদের জন্য এটি একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন। কোরআন ও হাদিসে জুমার দিনের গুরুত্ব, ফজিলত ও বিভিন্ন আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে।

হযরত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আগের জাতিগুলো জুমার দিনের মর্যাদা জানতে পারেনি। ইহুদিরা শনিবার এবং খ্রিস্টানরা রবিবারকে বিশেষ দিন হিসেবে গ্রহণ করেছে। এরপর আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মতকে জুমার দিনের মর্যাদা দান করেছেন।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৫৬)

জুমার দিন শ্রেষ্ঠ হওয়ার কারণ

হযরত আবু লুবাবা বিন আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমার দিনের বিশেষ পাঁচটি বিষয় রয়েছে—

১. এ দিন আল্লাহ তাআলা প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন।
২. এ দিনই তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।
৩. এ দিনই তার মৃত্যু হয়েছে।
৪. জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল করা হয়, যদি সে হারাম কিছু না চায়।
৫. এ দিনই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)

জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৬ আমল

১. জুমার নামাজ আদায় করা

জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ আদায় করা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা এবং এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজানের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মুছে দেয়, যদি বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা হয়।”
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩)

২. জুমার দিন গোসল করা

জুমার দিন উত্তমভাবে গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং ভালো পোশাক পরিধান করা সুন্নত আমল। হজরত আউস বিন আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে, দ্রুত মসজিদে যায় এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব দেওয়া হয়।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)

৩. আগে আগে মসজিদে যাওয়া

জুমার নামাজের জন্য আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

যে ব্যক্তি প্রথমে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করার সওয়াব পায়। এরপর যারা আসে তারা যথাক্রমে গরু, ছাগল, মুরগি ও ডিম সদকার মতো সওয়াব লাভ করে।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)

৪. জুমার দিনে বেশি বেশি দোয়া করা

জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয়। হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলিম তখন আল্লাহর কাছে ভালো কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)

৫. সুরা কাহাফ পাঠ করা

জুমার দিনের অন্যতম আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোয় আলোকিত থাকবে।”
(আল মুসতাদরাক, ২/৩৯৯)

৬. বেশি বেশি দরুদ পড়া

জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের ফজিলত রয়েছে।

হজরত আউস বিন আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—

“জুমার দিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

জুমার দিনের আরও কিছু আমল

হাদিস অনুযায়ী জুমার দিনে নখ কাটা, শরীর পরিষ্কার করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, উত্তম পোশাক পরা, মসজিদে গিয়ে খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং খুতবার সময় চুপ থাকা উত্তম আমল।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ

উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইজা নুদিয়া লিস সালাতি মিন ইয়াওমিল জুমুআতি ফাসআউ ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া জারুল বাইআ, জালিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তালামুন।

অর্থ: “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।”
(সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

তাই জুমার দিনের মর্যাদা বুঝে নামাজ, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে দিনটি কাটানো উচিত।


আরটিভি/জেএমএ