মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ১০:২৮ এএম
বিয়ের পর নারীর চুড়ি, নাকফুল বা অলংকার পরা নিয়ে সমাজে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, স্ত্রী এসব অলংকার না পরলে স্বামীর আয়ু কমে যায় বা কোনো ক্ষতি হতে পারে। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরনের ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
ইসলামি আলেমদের মতে, বিয়ের পর স্ত্রী চুড়ি, নাকফুল বা অন্য কোনো অলংকার না পরলে স্বামীর হায়াত কমে যাবে—এমন বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার। এসব ধারণা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়।
ইসলামি স্কলারদের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মানুষের জীবন ও মৃত্যু একমাত্র আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত বিষয়। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে কারো মৃত্যু হয় না। তাই অলংকার পরা বা না পরার সঙ্গে কারো আয়ু বা ভাগ্যের কোনো সম্পর্ক নেই।
(আদ-দুররুল মুখতার মাআ শামি, ৯/৬০২; ফাতওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৭)
কোরআনের শিক্ষা
মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন—
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ
উচ্চারণ: ওয়া লিকুল্লি উম্মাতিন আজালুন, ফাইযা জা-আ আজালুহুম লা ইয়াস্তাখিরুনা সা-আতাওঁ ওয়া লা ইয়াস্তাকদিমুন।
অর্থ: “প্রত্যেক জাতির জন্য একটি নির্ধারিত সময় রয়েছে। যখন তাদের সেই সময় এসে যাবে, তখন তারা এক মুহূর্তও পিছিয়ে যেতে পারবে না এবং এগিয়েও যেতে পারবে না।”
(সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩৪)
নারীদের অলংকার পরা কি বৈধ?
ইসলামে নারীদের সৌন্দর্য প্রকাশের জন্য বৈধ অলংকার পরিধান করার অনুমতি রয়েছে। নাক-কান ফোঁড়ানো এবং অলংকার ব্যবহার করা জায়েজ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন নামাজ শেষে নারীদের কাছে যান এবং তাদের সদকা করার নির্দেশ দেন। তখন নারীরা নিজেদের কানের দুল ও হাতের কঙ্কণ খুলে সদকা করতে থাকেন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪৩১)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সাহাবিদের যুগে নারীরা অলংকার ব্যবহার করতেন এবং তা নিষিদ্ধ ছিল না।
নাকফুল বা চুড়ি পরা বাধ্যতামূলক নয়
ইসলামি দৃষ্টিতে কোনো নারী চাইলে নাক বা কান ফোঁড়াতে পারেন, অলংকার পরতে পারেন। আবার কেউ চাইলে এসব থেকে বিরতও থাকতে পারেন। তবে চুড়ি বা নাকফুল না পরলে স্বামীর কোনো ক্ষতি হবে—এমন বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভুল।
ইসলাম কুসংস্কার থেকে মানুষকে দূরে থাকতে শিক্ষা দেয়। তাই সমাজে প্রচলিত ভিত্তিহীন ধারণা বাদ দিয়ে কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করাই একজন মুসলিমের দায়িত্ব।
আরটিভি/জেএমএ