বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ০৩:৫৩ পিএম
অনেকেই মনে করেন, কাজী অফিসে গিয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। আবার কেউ কেউ ধারণা করেন, কাবিননামায় সই করার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপন বৈধ। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
ইসলামি আলেমদের মতে, কাবিননামা মূলত বিবাহের একটি নিবন্ধনপত্র বা প্রমাণপত্র। এটি বিয়ের মূল চুক্তি নয়। তাই শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই বিয়ে সম্পন্ন হয় না।
বিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য কী প্রয়োজন?
শরিয়ত অনুযায়ী, বিয়ে সহিহ হওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে অথবা তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিকভাবে ইজাব (বিয়ের প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ) করতে হবে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী—
১. দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ সাক্ষী থাকতে হবে, অথবা
২. একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষী থাকতে হবে।
সাক্ষীদের সামনে স্পষ্টভাবে ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হলেই বিয়ের আকদ বা চুক্তি সম্পন্ন হয়।
কোরআনে বিয়েকে বলা হয়েছে দৃঢ় অঙ্গীকার
মহান আল্লাহ বলেন—
وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا
উচ্চারণ: ওয়া আখাযনা মিনকুম মীছাকান গালীযা।
অর্থ: “আর তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে।”
(সুরা আন-নিসা, আয়াত: ২১)
এই আয়াতে বিবাহকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিসে কী বলা হয়েছে?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
لَا نِكَاحَ إِلَّا بِشَاهِدَيْ عَدْلٍ
উচ্চারণ: লা নিকাহা ইল্লা বি শাহিদাই আদলিন।
অর্থ: “দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিয়ে বৈধ নয়।”
(বায়হাকি, দারাকুতনি)
আরেক হাদিসে এসেছে—
أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ
উচ্চারণ: আ'লিনু হাযান নিকাহ।
অর্থ: “তোমরা এ বিবাহ প্রকাশ্যভাবে সম্পন্ন করো।”
(জামে তিরমিজি, হাদিস: ১০৮৯)
শুধু সই করে সংসার শুরু করলে কী হবে?
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে যদি সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুল না হয়, তাহলে শুধু কাবিননামায় স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হবে না। এ অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মতো জীবনযাপনও বৈধ হবে না।
ধর্মীয় আলেমরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী নতুন করে বিয়ের আকদ সম্পন্ন করা জরুরি।
নতুন করে বিয়ে করতে যা করতে হবে
বৈধভাবে সংসার শুরু করতে চাইলে—
১. মহর নির্ধারণ করতে হবে,
২. প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত রাখতে হবে,
৩. পাত্র-পাত্রীর পক্ষ থেকে মৌখিক ইজাব ও কবুল সম্পন্ন করতে হবে।
এভাবে নতুন আকদ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিয়ে বৈধ হয়ে যাবে। এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
কাবিননামা বিয়ের প্রমাণপত্র হলেও সেটি নিজে বিয়ে সম্পন্ন করে না। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুলই বিয়ের মূল ভিত্তি। তাই শুধু কাবিননামায় সই করলেই বিয়ে হয়ে গেছে—এমন ধারণা সঠিক নয়।
তথ্যসূত্র: ফাতহুল কাদীর (৩/১০২), আল-বাহরুর রায়েক (৩/৮৩), মাজমাউল আনহুর (১/৪৬৮), রদ্দুল মুহতার (৩/১২), ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২৭০)।
আরটিভি/জেএমএ