images

ধর্ম

বিবস্ত্র হয়ে ঘুমানো যাবে কি, এ বিষয়ে ইসলাম কী বলে

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪২ এএম

ঘুম মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম নেয়ামত। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করে শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে ঘুমের বিকল্প নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি। তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ এবং দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য। (সুরা নাবা: ৯-১১)

অনেকেই গরমের কারণে বা স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বিবস্ত্র কিংবা খালি গায়ে ঘুমিয়ে থাকেন। তবে ইসলামি শরিয়তে এ বিষয়ে কী বিধান রয়েছে তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন দেখা যায়।

ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও নির্জন স্থানে, যেখানে অন্য কারও দেখার সম্ভাবনা নেই, সেখানে শরীর চাদর বা অন্য কোনো আবরণে ঢেকে বিবস্ত্র অবস্থায় ঘুমানো মূলত জায়েজ (মুবাহ)। এ বিষয়ে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং এতে গুনাহ হবে না। তবে খালি গায়ে ঘুমানোর কারণে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা পরিহার করাই উচিত।

তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে এভাবে ঘুমানো নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আলেমদের ভাষ্য অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কখনো বিবস্ত্র হয়ে ঘুমাতেন না। তার অনুসৃত পদ্ধতিতে ঘুমানো সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত এবং এতে সওয়াবের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও রয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামে লজ্জাশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা নগ্নতা থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, তোমাদের সঙ্গে এমন সঙ্গী (ফেরেশতা) রয়েছেন, যারা প্রাকৃতিক প্রয়োজন ও স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের সময় ছাড়া কখনো তোমাদের থেকে পৃথক হন না। তাই তাদের লজ্জা করো এবং সম্মান করো। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৮০০)

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইমানের ৭০টির বেশি শাখা রয়েছে... আর লজ্জা ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। (সহিহ মুসলিম: ৫১)

ইসলামে ঘুমকে এক অর্থে মৃত্যুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তাই একজন মুমিনের উচিত ঘুমানোর সময়ও শালীনতা বজায় রাখা। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে ঘুমানোর পরিবর্তে ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরা অথবা অন্তত একটি চাদর বা আবরণ ব্যবহার করা উত্তম এবং সুন্নতের অধিক কাছাকাছি।

আরটিভি/এসকে