images

ধর্ম

পরকালে ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন যারা, কী বলছে হাদিস

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০১:২০ পিএম

মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। কখনো দুর্বলতা, কখনো শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। তবে ইসলামে আল্লাহ তাআলার অন্যতম অনুগ্রহ হলো, তিনি বান্দার গোপন পাপ মানুষের সামনে প্রকাশ করে তাকে অপমানিত করেন না। বরং তওবার সুযোগ দেন এবং বান্দাকে তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানান।

ইসলামে গোপন গুনাহ প্রকাশ করে বেড়ানো বা তা নিয়ে গর্ব করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার উম্মতের সকলকেই ক্ষমা করা হবে, তবে যারা নিজেদের গুনাহ প্রকাশ করে বেড়ায় তারা ব্যতীত।

এরপর তিনি বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো ব্যক্তি রাতে গোপনে একটি গুনাহ করল এবং আল্লাহ তা মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখলেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই অন্যদের কাছে বলতে শুরু করল, গত রাতে আমি এই এই কাজ করেছি। অথচ সে রাত কাটিয়েছিল আল্লাহর দেওয়া পর্দার আড়ালে। পরে নিজেই সেই পর্দা সরিয়ে দিল। (সহিহ বুখারি: ৬০৬৯; সহিহ মুসলিম: ২৯৯০)

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, একজন মুমিনের পরিচয় হলো তিনি নিজের পাপকে প্রচার বা অহংকারের বিষয় বানান না। বরং ভুল হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করেন এবং সংশোধনের চেষ্টা করেন।

আলেমদের মতে, গুনাহ হয়ে গেলে একজন মুসলিমের করণীয় হলো

নিজের গুনাহ গোপন রাখা।

একান্তে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

ভবিষ্যতে সেই গুনাহ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করা।

বেশি বেশি নেক আমল করে অতীতের ভুলের ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করা।

ইসলামে তওবার দরজা সব সময় খোলা। তাই কোনো পাপ হয়ে গেলে তা মানুষের কাছে প্রকাশ না করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করাই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথ।

আরটিভি/এসকে