images

ধর্ম

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ব্যাপারে ইসলাম যা বলছে

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ , ০১:০২ পিএম

ইসলামে বৈধ দাম্পত্যজীবনকে মানবজীবনের পবিত্র ও স্বাভাবিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোরআন ও হাদিসে বিবাহবহির্ভূত যৌনসম্পর্ক, ব্যভিচার, পরকীয়া এবং অন্যান্য অবৈধ যৌনাচার থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ। (সুরা বনি ইসরাইল: ৩২)

তাফসিরবিদ ইমাম কুরতুবি (রহ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন,ব্যভিচার করো না বলার পরিবর্তে ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না বলা হয়েছে, যাতে এ অপরাধের দিকে নিয়ে যায় এমন সব পথ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ বোঝানো হয়েছে।

এছাড়া আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনি তোমাদের চোখের চুরি এবং অন্তরের গোপন বিষয়ও জানেন।(সুরা মুমিন: ১৯)

কোরআনে অবিবাহিত ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের জন্য নির্ধারিত শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ তাদের প্রত্যেককে একশ বেত্রাঘাত করো (সুরা নূর: ২)

ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে হাদিসের আলোকে বিভিন্ন মাজহাবে বিস্তারিত বিধান বর্ণিত হয়েছে এবং তা ইসলামী বিচারব্যবস্থার আওতায় প্রয়োগযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোরআনে হজরত লুত (আ.) এর সম্প্রদায়ের ঘটনা বর্ণনা করে সমলিঙ্গের যৌনাচারকে নিন্দা করা হয়েছে। (সুরা আরাফ: ৮০–৮৪)

এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদিসও বর্ণিত হয়েছে। তবে এসব হাদিসের প্রয়োগ, শাস্তির ধরন এবং প্রমাণের মানদণ্ড নিয়ে ইসলামী ফিকহবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রচলিত ইসলামী আইন অনুযায়ী, এসব বিষয়ে বিচারিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা হয়েছে; ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি কার্যকর করার কোনো সুযোগ নেই।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আর যারা নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে, তবে নিজেদের স্ত্রীদের ক্ষেত্রে ব্যতীত... যারা এর বাইরে কামনা করে, তারাই সীমালঙ্ঘনকারী। (সুরা মুমিনুন: ৫-৭)

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এ আয়াত বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরে যৌনাচার থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।

পরকীয়াকে ইসলাম গুরুতর পাপ হিসেবে গণ্য করে। কোরআনে বলা হয়েছে, অপবিত্র নারীরা অপবিত্র পুরুষদের জন্য এবং অপবিত্র পুরুষরা অপবিত্র নারীদের জন্য। আর পবিত্র নারীরা পবিত্র পুরুষদের জন্য এবং পবিত্র পুরুষরা পবিত্র নারীদের জন্য।(সুরা নূর: ২৬)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো পুরুষ যখন কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে থাকে, তখন তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।(তিরমিজি)

ইসলামী শিক্ষায় পর্দা পালন এবং অপ্রয়োজনীয় নির্জন অবস্থান এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদিসে ‘মুখান্নাস’ নামে পরিচিত কিছু ব্যক্তির প্রসঙ্গ এসেছে। আবু দাউদে বর্ণিত একটি হাদিসে রয়েছে, এমন একজনকে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার বাইরে নির্বাসনের নির্দেশ দেন। একই বর্ণনায় যখন তাকে হত্যা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন তিনি বলেন, যারা নামাজ পড়ে, তাদের হত্যা করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯২৮)

ইসলামে বৈধ বিবাহের মাধ্যমে যৌনজীবন পরিচালনাকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং ব্যভিচার, পরকীয়া ও অন্যান্য অবৈধ যৌনাচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে নৈতিক শিক্ষা, সতর্কবার্তা এবং ইসলামী বিচারব্যবস্থার আওতায় প্রযোজ্য বিধান উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য রাষ্ট্রীয় বা বিচারিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আরটিভি/এসকে