শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৯:৩৯ পিএম
শীতের এই রাতে যখন পৃথিবী শান্ত, তখনই আকাশ তার নিজস্ব ক্যানভাসে এক অভাবনীয় আলোর খেলা দেখাতে প্রস্তুত। জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বছরের সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক ঘটনার জন্য—আজ রাতে দেখা মিলবে জেমিনিড উল্কাবৃষ্টির । এই উল্কাবৃষ্টি তার উজ্জ্বলতা এবং ঘনত্বের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এই রাতে শত শত আলোর ফুলকি আকাশ চিরে নেমে আসবে, যা সৃষ্টি করবে এক মায়াবী দৃশ্যের।
প্রতি বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে জেমিনিড উল্কাবৃষ্টি হয়। এটি ঘটে যখন পৃথিবীর কক্ষপথ ৩২০০ ফেথন নামে একটি গ্রহাণুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপের মধ্য দিয়ে যায়। এই ক্ষুদ্র কণাগুলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের সাথে ঘর্ষণে জ্বলে ওঠে—আর আমরা তাদের উল্কা বা তারা-খসা হিসেবে দেখতে পাই।
জেমিনিড উল্কাবৃষ্টির নামকরণ করা হয়েছে জেমিনি বা মিথুন রাশির নামানুসারে। কারণ এই উল্কাগুলো এই নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে আসছে বলে মনে হয়। এই উল্কাবৃষ্টির উজ্জ্বলতা অন্য যেকোনো উল্কাবৃষ্টির চেয়ে বেশি হয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, আজ ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে ১৪ই ডিসেম্বর ভোরের আগ পর্যন্ত দেখার সেরা সময়। আদর্শ পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। সবচেয়ে ভালো সময় হলো মধ্যরাত থেকে ভোরের ঠিক আগ পর্যন্ত, যখন মিথুন রাশি আকাশের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থান করে।
এই দিকে বাংলাদেশ থেকে এই উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য আজ মধ্যরাত থেকে ভোরের ঠিক আগ পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে উল্কা দেখার জন্য চমৎকার একটি সময়। এসময় আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে প্রতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০টির মতো উল্কা দেখা যেতে পারে।
যেভাবে দেখবেন
বছরের সেরা এই মহাজাগতিক প্রদর্শনীটি উপভোগ করার জন্য আপনার কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই, শুধু দরকার ধৈর্য এবং আকাশ দেখার জন্য উপযুক্ত একটি স্থান। শহর বা কৃত্রিম আলো থেকে দূরে, অন্ধকার এবং খোলা আকাশ রয়েছে এমন স্থান বেছে নিন। যত কম আলো থাকবে, উল্কা তত স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
এই উল্কাগুলো আকাশের যেকোনো দিকেই দেখা যেতে পারে, তবে মিথুন রাশির দিকে তাকালে আপনি উৎসের কাছাকাছি উল্কাগুলো দেখতে পাবেন। মিথুন রাশিকে খুঁজে বের করতে মোবাইল অ্যাপস (যেমন—স্টার চার্ট) ব্যবহার করতে পারেন।
উল্কা দেখা শুরু করার আগে আপনার চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিন। এই সময়ে মোবাইল বা অন্য উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে আকাশ দেখতে হবে, তাই একটি চেয়ারে শুয়ে বা পিঠ হেলান দিয়ে আরামদায়কভাবে বসার ব্যবস্থা করুন।
এই উল্কাবৃষ্টি মানব চোখে দৃশ্যমান এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যা আমাদের মহাবিশ্বের বিশালতা ও বিস্ময়কে তুলে ধরে। আশা করা যায়, আজকের মেঘমুক্ত আকাশ আমাদের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ করে দেবে।
আরটিভি/এআর