রোববার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৩:০১ পিএম
পৃথিবী থেকে চাঁদ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে—এই বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন নয়। তবে এবার উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা আরও একবার জানিয়েছেন এ চাঞ্চল্যকর তথ্য। চাঁদ যত দূরে সরবে, আমাদের গ্রহে দিনের দৈর্ঘ্য ২৪ ঘণ্টার বদলে বেড়ে ২৫ ঘণ্টা হয়ে যেতে পারে। প্রায় ১৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ১৮ ঘণ্টা। যদিও এই দাবিটি এখনও কেবল গবেষণার স্তরে এবং একটি ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, তবুও এটি পৃথিবীর ভবিষ্যতের এক বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
তবে আশার কথা হলো, এই পরিবর্তন হতে সময় লাগবে প্রায় ২০ কোটি বছর, তাই আপাতত চিন্তার কোনো কারণ নেই। গবেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, আজ থেকে প্রায় ১৪০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ১৮ ঘণ্টা, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন ২৪ ঘণ্টা হয়েছে।
বর্তমানে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার, এবং প্রতি বছর চাঁদ প্রায় ৩.৮ সেন্টিমিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে। চাঁদের এই ধীরে ধীরে দূরে চলে যাওয়াই পৃথিবীতে এই বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।
কীভাবে এটি সম্ভব, তা ব্যাখ্যা করেছেন গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী ও উইসকনসিন-ম্যাডিসন ইউনিভার্সিটির ভূ-বিজ্ঞানের অধ্যাপক স্টিফেন মায়ার্স।
তিনি জানান, দিনের দৈর্ঘ্যের এই হিসাব বোঝার জন্য ঘূর্ণায়মান ফিগার বা বরফে স্কেটিং করার ধরন বুঝতে হবে। একজন স্কেটার যেমন প্রচণ্ড বেগে স্কেটিং করার সময় দু-হাত ছড়িয়ে দিলে তার গতি কমে আসে, ঠিক তেমনই চাঁদ দূরে সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতিও কমছে এবং দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ছে।
বিজ্ঞানীরা প্রায় ৯ কোটি বছরের পুরোনো একটি পাথরের ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর কয়েক বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। এই ভূতাত্ত্বিক গঠনের বিশ্লেষণ থেকেই গাণিতিক হিসাব কষে তারা দেখেছেন, চাঁদ দূরে সরে যাওয়ার প্রভাব পৃথিবীর ওপর পড়ছে। সূত্র: দ্য ডেইলি মেইল
আরটিভি/এএইচ