images

বিজ্ঞান

সামনে এলো নারী পাখির গানের অজানা জগৎ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৩৮ পিএম

প্রকৃতির ভোরের সুমধুর পাখির ডাক শুনলেই এতদিন মনে করা হতো—এটি পুরুষ পাখির কণ্ঠ। এলাকা দখল বা সঙ্গী আকর্ষণের জন্য পুরুষ পাখিরাই গান গায়— এমন ধারণাই ছিল প্রতিষ্ঠিত। তবে নতুন একটি গবেষণাভিত্তিক বই সেই প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে দেখাচ্ছে, নারী পাখিরাও সমানভাবে গান গায় এবং তাদের ভূমিকা আরও জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি প্রকাশিত 'দ্য সাউন্ড অ্যাপ্রোচ টু বার্ডিং ২' বইটিতে নারী পাখির গান নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। বইটির গবেষক ও লেখক লুসি ম্যাকরবার্ট জানান, নারী পাখিরা শুধু সঙ্গী আকর্ষণের জন্যই নয়, নিজেদের এলাকা রক্ষা, প্রতিদ্বন্দ্বী নারী পাখিকে দূরে রাখা এবং কখনও অতিরিক্ত সঙ্গী আকর্ষণের জন্যও গান গেয়ে থাকে।

গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে পাখির শব্দ সংরক্ষণাগারগুলোতে নারী পাখির উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। ২০১৬ সালে বৈশ্বিক জেনো-কান্তো ডাটাবেজে মাত্র ০ দশমিক ০১ শতাংশ শব্দ নারী পাখির হিসেবে চিহ্নিত ছিল। ২০১৮ সালের আরেকটি গবেষণাতেও একই ধরনের চিত্র উঠে আসে।

বইটির লেখক ও গবেষক মার্ক কনস্ট্যানটাইন বলেন, পাখির গান সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণার অনেকটাই ভুল। উদাহরণস্বরূপ, হাঁসের ক্ষেত্রে আমরা যে ‘কোয়াক’ শব্দ শুনি, সেটি আসলে নারী হাঁসের কণ্ঠ— পুরুষ হাঁস সাধারণত এমন শব্দ করে না।

এই গবেষণার পেছনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন লেখক জেসমিন ডোনাহায়ে, যার বই বার্ডস্প্লেইনিং-এ ১৯৫০ থেকে ৮০-এর দশকের পাখি নির্দেশিকা বইগুলোর লিঙ্গবৈষম্যমূলক উপস্থাপনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দেখিয়েছেন, সেখানে পুরুষ পাখিকে প্রধান ও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরা হলেও নারী পাখিকে প্রায়ই পেছনে, ম্লান ও গৌণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

গবেষণায় আরও জানা যায়, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ প্রজাতির নারী পাখি গান গায়। বিশেষ করে উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে নারী ও পুরুষ পাখি একসঙ্গে দ্বৈত সঙ্গীতে অংশ নেয়, যা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করা ও এলাকা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিছু চমকপ্রদ তথ্যও উঠে এসেছে। যেমন, আল্পাইন অ্যাকসেন্টর প্রজাতির নারী পাখি একা থাকলে আকর্ষণীয় সুরে গান গেয়ে দ্রুত পুরুষ পাখিকে কাছে টেনে আনে। আবার তামাটে পেঁচা-এর ক্ষেত্রে প্রচলিত 'টু-হুইট, টু-হু' ডাকটি নারী-পুরুষ উভয়ই দিতে পারে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ঢাকায় গাগারিনের ভাস্কর্য: বিজ্ঞান, বন্ধুত্ব আর মহাকাশ স্বপ্নের নতুন দিগন্ত

এছাড়া ইউরোপীয় রবিন প্রজাতির নারী পাখিরাও শীতকালে নির্দিষ্ট সময় গান গায়— যা আগে খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি।

গবেষকদের মতে, শুধু গান গাওয়াই নয়, পাখির গানের ধারা নির্ধারণেও নারী পাখির বড় ভূমিকা রয়েছে। পুরুষ পাখিরা যদি নতুন ধাঁচের গান গাইতে পারে, তবে তারা ভালো এলাকা ও সঙ্গী পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে— আর এই প্রবণতা নির্ধারণে নারী পাখির পছন্দই মুখ্য ভূমিকা রাখে।

জেসমিন ডোনাহায়ে বলেন, আমরা এতদিন ধরে ধরে নিয়েছিলাম যে শুধু পুরুষ পাখিরাই গান গায়। এই ধারণার কারণে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই করিনি— ফলে অনেক কিছুই অজানা থেকে গেছে।

গবেষকদের আশা, নারী পাখির গান নিয়ে এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে পাখির আচরণ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও গভীর গবেষণার পথ খুলে দেবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরটিভি/এমএইচজে