বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ১১:৪৭ এএম
ছোটবেলা থেকে আমরা অনেকেই দেখে এসেছি, সাপুড়ে বাঁশি বাজাচ্ছেন আর সামনে ফণা তুলে দুলছে সাপ। সিনেমা, মেলা বা গ্রামের অনুষ্ঠানে এই দৃশ্য খুবই পরিচিত। তাই অনেকেরই ধারণা, বাঁশির সুর শুনেই সাপ নাচতে শুরু করে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, আসল ঘটনা একেবারেই অন্যরকম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ মানুষের মতো শব্দ শুনতে পারে না। কারণ সাপের বাইরে কোনো কান দেখা যায় না এবং তাদের কানের ছিদ্রও নেই। তাই তারা বাতাসের শব্দ খুব কম শুনতে পারে। কিন্তু তারা মাটির কম্পন দারুণভাবে অনুভব করতে পারে।
সাপ মূলত— মাটির কম্পন, আশপাশের নড়াচড়া, নিচু ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ তাদের চোয়ালের হাড় ও শরীরের মাধ্যমে অনুভব করে। কম্পন চোয়াল থেকে ভেতরের কানে পৌঁছে যায়। এ কারণেই কেউ হাঁটলে সাপ টের পায়, মাটিতে আঘাত করলে সাপ সতর্ক হয়, ঢোল বা ভারী কম্পনের প্রতি সাপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।
তবে বাঁশির সুরে সাপ নাচে বা ছুটে আসে এটা সত্য নয়। সাপ আসলে সুর শোনে না; তারা বাঁশিওয়ালার নড়াচড়া ও কম্পনের দিকে প্রতিক্রিয়া দেখায়।
যখন সাপুড়ে বাঁশি বাজান, তখন তিনি শুধু সুরই করেন না, বাঁশিটিকে এদিক-ওদিকও নাড়ান। সাপ সেই নড়াচড়ার দিকে নজর রাখে। সাপ মনে করে সামনে কোনো বিপদ বা আক্রমণ আসতে পারে। তাই আত্মরক্ষার জন্য ফণা তুলে বাঁশির গতির সঙ্গে নিজের মাথা ও শরীর দোলাতে থাকে। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, যেন সাপ বাঁশির তালে নাচছে।
আসলে সাপ খুব সতর্ক প্রাণী। তাদের চোখ সবসময় সামনে থাকা জিনিসের গতিবিধির দিকে থাকে। সাপুড়ে যখন বাঁশি নাড়াতে থাকেন, সাপ সেই নড়াচড়াকে অনুসরণ করে।
সাপ মাটির কম্পন খুব দ্রুত বুঝতে পারে। কেউ জোরে হাঁটলে বা মাটিতে আঘাত করলে সেই কম্পন সাপ অনুভব করতে পারে। এই ক্ষমতা তাদের শিকার ধরতে ও বিপদ এড়াতে সাহায্য করে।
তাই বলা যায়, সাপ আসলে বাঁশির সুরে নাচে না। সে শুধু বাঁশির নড়াচড়া ও আশপাশের কম্পনের প্রতিক্রিয়া দেয়। বহুদিনের লোকবিশ্বাস ও সিনেমার প্রভাবে এই ভুল ধারণা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে