শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ০১:০৪ পিএম
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উপস্থাপক জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেছেন, রাজনীতিতে যখন স্বচ্ছতা থাকে না, তখন নানা রকমের সংশয় তৈরি হয়। তিনি বলেছেন, একটা ধোঁয়াটে আবহের মধ্যে কে কী করে, সেটা বোঝা যায় না। বর্তমানে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সাধারণভাবে ধরে নেওয়া যায়, আওয়ামী লীগ এই কাজগুলো করছে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি এ কথা বলেন এবং যোগ করেন যে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের সমর্থক-নেতারা এগুলোর পক্ষে প্রচারণা চালালে এই ধারণা আরও বেশি প্রমাণিত হয়।
তবে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে জিল্লুর রহমান বলেন, এই ঘটনা অন্যরকম ভাবনা তৈরি করে। কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট-স্বৈরাচার, তাই তাদের কার্যালয়ে আগুন দিলে দোষ কী? কিন্তু দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। অপরাধী হলো তাকে আঘাত করা কোনো সাধারণ নাগরিকের, কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো শক্তির কাজ নয়। এই কাজের জন্য দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইন রয়েছে।
তিনি বলেন, একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যা অস্বাভাবিক মনে হয়, অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সেটা মনে হয় না। অভ্যুত্থানকালে বা যুদ্ধকালে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কেউ খুব বেশি কথা বলে না।
তবে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, যুদ্ধকালীন শিশু, নারী, নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন করা পৃথিবীর কোনো আইন সমর্থন করে না। যে কারণে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা নিরীহ মানুষকে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও লুটপাটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়নি।
এই উপস্থাপক আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ক্ষুব্ধ জনতার প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল বলা গেলেও, সেই প্রতিক্রিয়া যদি এখনো অব্যাহত থাকে— কারো বাড়ি ভেঙে, কারো অফিস জ্বালিয়ে, বা কোনো ব্যক্তির ওপর আক্রমণ করে— সেটা কিন্তু আর গ্রহণযোগ্য নয়। এমনটা হলে বলতে হবে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে না বা দেশে আইনের শাসন নেই।
এছাড়া, গণভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত শক্ত ভাষায় কিছু বলছে বলে উল্লেখ করে জিল্লুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী যা বলে সব সময় সেই জায়গায় তারা থাকে না, তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার স্বভাব রয়েছে।
আরটিভি/এএইচ