শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ , ১২:৫১ পিএম
সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত সিনিয়র সচিব মর্যাদায় বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাতে তিনি খালেদা জিয়াকে তার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া এক অনুপ্রেরণা এবং ব্যক্তিগত ঋণের কথা উল্লেখ করেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে রাষ্ট্রদূত মুশফিক তার নেতৃত্বে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক তার স্ট্যাটাসে বলেন, “মাত্র ২৬ বছর বয়সে দেশের সর্বোচ্চ অফিস—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজে যোগদানের যে সুযোগ পেয়েছিলাম, যার জন্য আমি কাজ করেছি তিনি সেসময়ের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি শুধু একজন নেতা ছিলেন না—আমার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া এক প্রেরণা। তার সান্নিধ্য, মাতৃস্নেহ, আর তার শেখানো প্রত্যয়ই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সাহস ও অনুপ্রেরণার উৎস উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুশফিক বলেন, জীবনের প্রতিটি ধাপে জুলুমের মুখে, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে যখনই দাঁড়িয়েছেন—জাতিসংঘে, হোয়াইট হাউসে বা অন্য আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে, তিনি খালেদা জিয়ার ভূমিকাই সগৌরবে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তুলে ধরেছেন বিগত হাসিনা সরকারের দ্বারা তার প্রতি চালানো নিপীড়ন ও নির্যাতনের চিত্র।
তিনি তার নির্বাসিত জীবনের কথা উল্লেখ করে জানান, ২০১৬ সালে পরিবারসহ লন্ডনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তখন খালেদা জিয়া তাকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক বলেন, তিনি শুধু বললেন, এখানে তুমি কি করবে। যুক্তরাষ্ট্রে যাও? সেখানে তুমি অনেক ভালো করছিলে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার সুযোগ তোমার বেশি। তোমার কানেকশনও ভালো। সেদিনই সিদ্ধান্ত নিই। পরিবারকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসি।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক জানান, গত মাসে হাসপাতালে থাকার সময় ম্যাডামের ব্যক্তিগত সহকারী তাকে জানানো মাত্রই তিনি তাকে ডেকেছিলেন। সেদিনও তারা দীর্ঘক্ষণ দেশ, রাজনীতি, কূটনীতি নিয়ে কথা বলেছিলেন। খালেদা জিয়া তাকে বলেছিলেন, তোমার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সেদিনের সিদ্ধান্ত ঠিকই ছিল।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনা করে রাষ্ট্রদূত মুশফিক তার বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আজ আমি এমন এক দেশে আছি, যেখানে ইচ্ছে করলেই দৌঁড়ে যেতে পারছি না। সরকারি নিয়মকানুন, আর একটি ছোট্ট সার্জারির কারণে তাৎক্ষণিক ফ্লাই করতেও পারছিনা। শুধু অশ্রুসিক্ত চোখে মহান রবের কাছে অযুত প্রার্থনা—তার অফুরন্ত দয়ার ভাণ্ডার থেকে সামান্য করুণা ভিক্ষা..!
আরটিভি/এআর