images

সোশ্যাল মিডিয়া

নির্বাচনের আগে অপতথ্যের ‘বন্যা’, ভারত থেকেই  ৯০ শতাংশের বেশি

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:১৭ পিএম

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে অপতথ্য ও ভুয়া প্রচারণার এক ধরনের ‘বন্যা’ বইছে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এসব বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের ৯০ শতাংশের বেশি এসেছে প্রতিবেশী ভারত থেকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি ও ভিডিও ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭ কোটি জনসংখ্যার মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা এবং পরে তিনি ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের আশ্রয়ে রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে তা দমনে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এসব অপতথ্যের মধ্যে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবিও রয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানুয়ারিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের কাছে সহায়তা চেয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে ‘ভুল তথ্যের বন্যা’ তৈরি হয়েছে। এটি বিদেশি গণমাধ্যম ও স্থানীয়- উভয় উৎস থেকেই আসছে।

এই অপতথ্যের বড় একটি অংশ ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশই অমুসলিম, যাদের অধিকাংশ হিন্দু। এ নিয়ে অনলাইনে ব্যাপকভাবে দাবি ছড়ানো হচ্ছে যে হিন্দুরা বাংলাদেশে হামলার শিকার হচ্ছে, যেখানে ‘হিন্দু গণহত্যা’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানুয়ারিতে প্রকাশিত পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর সদস্যদের জড়িত ৬৪৫টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশকে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট জানিয়েছে, তারা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট থেকে তৈরি ৭ লাখের বেশি পোস্ট শনাক্ত করেছে, যেখানে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ‘হিন্দু গণহত্যা’র দাবি করা হয়েছে।

থিংক ট্যাংকটির প্রধান রাকিব নায়েক বলেন, আমরা অনলাইনে সমন্বিত ভারতীয় অপতথ্য শনাক্ত করেছি। এসব অপতথ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতার মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। তিনি জানান, এই কনটেন্টের ৯০ শতাংশের বেশি ভারত থেকে এসেছে। বাকিগুলো যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সংশ্লিষ্ট হিন্দু জাতীয়তাবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।

আরও পড়ুন
Web-Image

আমাদের কাছ থেকে যা পেয়েছেন তার এক ইঞ্চিও কম নেবেন না: প্রেস সচিব

এএফপি ফ্যাক্ট চেক দল ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে শত শত এআই-তৈরি ভিডিও শনাক্ত করেছে। এর খুব কম ভিডিওতেই এআই ব্যবহারের সতর্কবার্তা বা ঘোষণা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বছরের পর বছর দমন-পীড়নের পর এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সে সময় বিরোধীদের দমন করার পাশাপাশি ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠও রোধ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র মো. রুহুল আমিন মালিক বলেন, তারা ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার সঙ্গে কাজ করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারির জন্য একটি ইউনিট গঠন করেছে। তবে অনলাইনে বিপুল কনটেন্টকে পরিমাণ সামাল দেওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। আমাদের দল যদি কোনও কনটেন্টকে ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে শনাক্ত করে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে ভুয়া তথ্য হিসেবে ঘোষণা করি।

আরটিভি/এমএইচজে