মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৬:১৪ এএম
রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক? ফেসবুক থেকে টিকটক, ইউটিউব থেকে বাস্তবে এই ডায়ালগটি শোনেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া এই মুহূর্তে কঠিন। কারণ এই ডায়লগে মাঠ এখন রমরমা।
নেটিজেনদের অনেকের প্রশ্ন, কোনো কবিরাজের মুখ থেকে এলো এই কথা। ভাইরাল হওয়া ব্যক্তি কি আসলেই কবিরাজ নাকি অন্য কেউ।
আসলে তিনি কোনো কবিরাজ নন, বরং তিনি একজন পেশাদার অভিনেতা।
জানা যায়, এই ব্যক্তির নাম ঈমান আলী। যিনি কবিরাজের ছদ্মবেশে ক্যামেরার সামনে এসেছেন। প্রায় ২০-২৫ বছর আগে ভাগ্য অন্বেষণে সপরিবারে লালমনিরহাট জেলা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন গাজীপুরে। সেই থেকে গাজীপুরেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন তিনি।
ছোটোবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল ঈমান আলীর। একটা সময় সেই শখটাই রূপ নেয় পেশায়। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনয়কেই তিনি জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বিভিন্ন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামাজিক সচেতনতামূলক এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিওতে নিয়মিত অভিনয় করেন তিনি।
সম্প্রতি একটি ফেসবুক ও ইউটিউব কন্টেন্টের জন্য কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করেন ঈমান আলী। সেখানে তার বাচনভঙ্গি, চোখের ইশারা আর বিশেষ ভঙ্গিমায় বলা, রাগ করলা, কথা ঠিক না বেঠিক, ডায়লগটি রাতারাতি লুফে নেয় নেট দুনিয়া। মুহূর্তের মধ্যেই লাখ লাখ ভিউ এবং শেয়ারের মাধ্যমে এটি ভাইরাল কন্টেন্টে পরিণত হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও এখন ঈমান আলীর এই ডায়ালগ ব্যবহার করে তৈরি করছেন নানা ভিডিও।
ঈমান আলী জানান জানান, অভিনয়ের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা ছিল, সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি পেশাদার কোন কবিরাজ নই। অভিনয়ের মাধ্যমে আমি পেশাটাকে ফুটিয়ে তুলেছি। হয়ত অনেকেই সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অভিনয় ছিলো। ভিডিওটি শুধু মাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমি যত দিন বেঁচে থাকবো মানুষকে বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করবো।
তার এই আকস্মিক ভাইরাল হওয়া ও জনপ্রিয়তা নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও বেশ চাঞ্চল্য ও আনন্দ দেখা গেছে। প্রতিবেশীরা জানান, ঈমান আলী দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় অভিনয়ের সাথে জড়িত। তবে এই একটি ডায়ালগ তাকে দেশজুড়ে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
আরটিভি/এসএস