শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০২:২২ পিএম
তথ্যের চেয়ে বয়ানকে এবং সত্যের চেয়ে মিথ্যা প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওই পোস্টে নাসির উদ্দিন নাসির লিখেন, আবারও প্রমাণিত হলো, জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে জামায়াতের আমির, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং শিবির-নিয়ন্ত্রিত বট ও ফেক আইডিগুলো থেকে। পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা বারবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই ঘটনাটিকে অপহরণ ও ‘গুম’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য এবং অনলাইন সমর্থকদের প্রচারণায় এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয় যেন এটি রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্টতার কোনো গুরুতর ঘটনা। অথচ ‘গুম’ শব্দটি কোনো সাধারণ অভিযোগ নয়; এটি একটি ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, যার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সম্পৃক্ততার প্রশ্ন জড়িত থাকে।
তিনি আরও লিখেন, এখন পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক তথ্য বলছে, ঘটনাটি অপহরণ বা গুম নয়। বরং সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। যদি তদন্তে প্রকাশিত তথ্যগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে—কোনো রাজনৈতিক দল কি এত বড় অভিযোগ উত্থাপনের আগে ন্যূনতম যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনও অনুভব করে না? আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠিতভাবে ‘গুম’ বয়ান ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি অপ্রমাণিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবেগ উসকে দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে, অথচ পরে যখন ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে তখন সেই প্রচারণার দায় কেউ নিচ্ছে না।
নাসির লিখেন, বারবার দেখা যাচ্ছে, তথ্যের চেয়ে বয়ানকে এবং সত্যের চেয়ে মিথ্যা প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তব্য যদি যাচাইকৃত তথ্যের পরিবর্তে অনুমান, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের ওপর দাঁড়ায়, তাহলে তা শুধু রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না; বরং প্রকৃত গুম, অপহরণ বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর গুরুত্বও কমিয়ে দেয়।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক লিখেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে জনগণ সত্যভিত্তিক অবস্থান প্রত্যাশা করে, প্রোপাগান্ডা নয়। জিসান ইস্যুতে অন্তত এটুকু স্পষ্ট হয়েছে যে, অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে যতটা তৎপরতা দেখানো হয়েছে, তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তার সামান্য অংশও দেখা যায়নি। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই প্রবণতা গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনআস্থার জন্য মোটেও শুভ নয়।