মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০২:৩১ এএম
আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ তারকাদের মধ্যে অন্যতম একজন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। যিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যাচেষ্টায় অভিযুক্ত এবং হোয়াটসঅ্যাপের ‘আলো আসবেই’ গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। আর এই অভিনেত্রী এবার সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে লাইভে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জ্যোতিকা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, অনলাইন হয়রানি ও কাজের সংকটে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত তিনি। আর একপর্যায়ে এ অভিনেত্রী বলেন, আমি আর পারছি না।
জ্যোতিকা শুরুতেই বলেন, নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনার পর অনেক কথা বলি আমরা। কিন্তু যে মানুষটি এমন অবস্থার মধ্যে থাকে, তার কষ্ট শুধু তিনি নিজেই জানেন। আমি নিজেকে সবসময় শক্ত রাখার জন্য চেষ্টা করেছি। যা এখন আর পারছি না।
তার দাবি, গত দুই বছর ধরে তেমন কোনো কাজ নেই তার। কিন্তু এই সময় নিয়মিত অনলাইন হয়রানি, কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়েছেন। আর্থিক সংকটের কথাও জানান। বলেন, অনেক সময় মা-বাবার কাছ থেকে সাহায্য নিতে হচ্ছে, যা তাকে অধিকতর মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।
এ সময় জ্যোতিকা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের পর থেকে তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও হয়রানি বেড়ে যায়। তার ভাষ্যমতে, তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের কারণে একাধিক পক্ষের সমালোচনা, হুমকি এবং অনলাইন বুলিংয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণ দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি। নানা সময় তাকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। যা তার জন্য খুবই কষ্টের। আর এসব ঘটনার প্রভাব তার পেশাগত জীবনে পড়ছে বলেও জানিয়েছেন জ্যোতিকা।
এ অভিনেত্রীর দাবি, তাকে নিয়ে কাজ করতে এখন অনেকেই ভয় পান। এ কারণে তার পেশাগত জীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, আমি কারও কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারি না। আবার আপস করেও কাজ করতে পারি না। আমার জীবন একদম নরকের মতো হয়ে গেছে।
এছাড়া লাইভের শেষ দিকে জ্যোতিকা বলেন, আমি হেল্পলেস। আমি দুঃখিত, এভাবে আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হলো। কিন্তু আমার আর শক্তি নেই। মনে হচ্ছে, আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না।
আরটিভি/এসএস