বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ , ০৬:৪০ পিএম
Failed to load the video
গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী স্বৈরশাসনের পতনের এক বছর পরও শৃঙ্খলা ফেরেনি প্রশাসনে। বিগত সরকারের আমলে বঞ্চিতরা পদায়ন না পাওয়া, একজন অতিরিক্ত সচিবকে একাধিক অনু বিভাগের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। যুগ্ম-সচিব হওয়ার চার বছর পার হলেও অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেরি হওয়ায় ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
তথ্যমতে, মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিতর্ক থামছেই না। ২০তম ব্যাচকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দিতে চায় অন্তর্বর্তী প্রশাসন। কিন্তু বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেয় সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড।
২০১৮ সালে নৈশ নির্বাচনের দায়িত্বরত ৩৯ জন ডিসিসহ অনুভবে বঙ্গবন্ধু গ্রন্থের লেখক ২০তম ব্যাচের ২৫ জন বাদ পড়ায় আলোর মুখ দেখেনি এ সিদ্ধান্ত। এতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনে দেখা দিয়েছে অনীহা।
জনপ্রশাসন নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ৪১৮টি অতিরিক্ত সচিব পদের মধ্যে ৩৩০ জন অতিরিক্ত সচিব কর্মরত। শূন্য পদ রয়েছে ৮৮টি। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারিতে পদের সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ২৮৮-তে। এই প্রথম চার বছর অতিক্রম করে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পায়নি ২০তম ব্যাচ।
কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বলছে, একজন অতিরিক্ত সচিব দুই বা তার চেয়ে বেশি অনু বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন, যা সুশাসনবান্ধব নয় বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
পদ ছাড়া পদন্নোতি দিয়ে আওয়ামী সরকার প্রশাসনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছিল জানিয়ে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ বলেন, পদায়ন শৃঙ্খলা ফিরানো জরুরি।
সাবেক সচিব এ কে এম আব্দুল আউয়াল মজুমদার বলেন, পদ ছাড়া পদন্নোতি পৃথিবীর কোথাও নেই। যদি পদ শূন্য থাকে, যার পদন্নোতির যোগ্যতা থাকে তাহলে সেটা এমনিতেই হবে।
সাবেক আরেক সচিব মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, বাছাই করে পদায়ন করা যেত। এই হতাশা প্রশাসনকে আরও দুর্বল করে দেয়। সে নিজে কাজ করবে না, উল্টো অন্যের কাজে বাধা সৃষ্টি করবে।
তিনি আরও বলেন, কাউকে পদায়ন করা হলে, সে যদি ওই পদে ভালো করতে না পারে তাহলে তো তার চুক্তি বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু তাকে অন্য আরেকটা পদে দেওয়া তো কোনো যুক্তি নেই।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলেননি জনপ্রশাসন সচিব।
আরটিভি/আরএ