শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১০:৩৩ এএম
Failed to load the video
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কমেনি বিদ্যুতের সিস্টেম লস, উল্টো বেড়েছে। সরবরাহ লাইনের দুর্বলতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ চুরি অব্যাহত থাকায় বেড়েছে এই লোকসান। এদিকে, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতেও নেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। যদিও কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোটাই এই সরকারের বড় অর্জন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সেবামূলক খাতটির অবনতির জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া উচিত পারফরম্যান্স বোনাসও।
বর্তমানে গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে বিতরণকারী ৬ প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত সিস্টেম লস হচ্ছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ। আর বিতরণকারীদের কাছে তা পৌঁছে দিতে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা-পিজিসিবি অপচয় করছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরের ডিসেম্বরে উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে অপচয় হচ্ছে ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ।
তবে, বিগত ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিদ্যুতের সিস্টেম লস ছিল ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর তার আগের বছরগুলোতে এই লোকসান ছিল যথাক্রমে- ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
চাহিদা কম থাকা শীত মৌসুমেও বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে কমবেশি ১০ হাজার মেগাওয়াট করে। এতে সিস্টেম লসও রয়েছে হাজার মেগাওয়াটের বেশি। গ্রীষ্ম মৌসুমে এই উৎপাদন পৌঁছায় ১৬ হাজার মেগাওয়াটে, যার ফলে আর্থিক লোকসানের পরিমাণও বাড়ে একই হারে।
এদিকে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদ্যুতের এই লস কমার প্রত্যাশা থাকলেও তা উল্টো বেড়েছে। যদিও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সিস্টেম লস কমার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে আসছে মাত্র তিন শতাংশ। যদিও শিগগিরই আরও ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম।
কিন্তু, অরাজনৈতিক সরকারের সময়ও সিস্টেম লস কমাতে না পারাটা হতাশার মন্তব্য করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারন ভোক্তার উপস্থিতিতে না করার কারণে তা জনবান্ধবহীন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে দেশের জ্বালানি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/আরএ