বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ১১:১৫ পিএম
Failed to load the video
রুশ সেনারা শত্রু খুঁজছিলেন সামনের দিকে। কিন্তু এখন তাদের ভয় তাড়া করছে পেছনেও। কারণ আকাশে উড়ছে এমন এক ড্রোন, যা নিজেই লক্ষ্য চিনে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আর মুহুর্তেই নেমে আসে ধ্বংস। সেই এআই ড্রোনই এখন একের পর এক রুশ রসদবাহী কনভয় ধ্বংস করে চেষ্টা করছে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার। বিবিসি , আনাদুলু এজেন্সিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, এআই-চালিত ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়াকে চাপে ফেলার চেষ্ট করছে ইউক্রেন।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গেলো মাসে ক্রিমিয়া ও দক্ষিণ ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চলগুলোর সঙ্গে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অন্তত ১৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন এখন শুধু সামনের যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, রাশিয়ার পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকেই বানিয়েছে লক্ষ্যবস্তু। নতুন এআই-চালিত ড্রোন ব্যবহার করে খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ বহনকারী ট্রাকগুলোকে খুঁজে বের করে ধ্বংস করছে দেশটি। শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটেই অন্তত ১৫০টি যানবাহন ধ্বংস হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে একাধিক সংবাদ মাধ্যম।
ইউক্রেনের ভাষায় এটি ‘লজিস্টিকস লকডাউন’ কৌশল। অর্থাৎ সরাসরি সেনাদের ওপর হামলা নয়। বন্ধ করতে হবে তাদের কাছে খাদ্য, জ্বালানি ও গোলাবারুদ পৌঁছানোর পথ। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ বলেছেন, এই কৌশলের লক্ষ্য হলো রুশ বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ানো এবং তাদের ধারাবাহিক আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া।
এই অভিযানের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে নতুন ‘হর্নেট’ এআই ড্রোন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত চার বছর ধরে সংগ্রহকৃত হাজার হাজার ঘণ্টার রুশ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ভিডিও দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এই ড্রোনগুলোকে। ফলে এগুলো নিজেই সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে। এমনকি স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করায় রুশ বাহিনীর ইলেকট্রনিক জ্যামিংও এদের থামাতে পারছে না সহজে।
বিশ্লেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তির কারণে এখন সম্মুখসমর থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে থাকা রুশ রসদবাহী যানবাহনও নিরাপদ নয়। আর তাতেই রাশিয়া বাধ্য হয়েছে কিছু এলাকায় কনভয়ের আকার ছোট করতে। দক্ষিণ ইউক্রেনে ভারী সামরিক সরঞ্জাম চলাচলও সীমিত করা হয়। কোথাও কোথাও ড্রোনের নজর এড়াতে কাঁচা রাস্তা ও মাঠ ব্যবহার করছে রুশ বাহিনী।
এতে যুদ্ধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর ইউক্রেনের জন্য এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই সুবিধা স্থায়ী নাও হতে পারে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির লড়াই কখনো থেমে থাকে না। ইউক্রেন যেমন নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে, তেমনি রাশিয়াও যেকোনো মুহুর্তে এর পাল্টা চাল দিতে পারে। কিন্তু আপাতত আকাশে উড়তে থাকা এই বুদ্ধিমান ড্রোনগুলো যেন রাশিয়ার জন্য নতুন এক দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছে।
আরটিভি/এআর