শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ , ০৮:০৪ পিএম
Failed to load the video
দেখুন, এমন দৃশ্য দেখলে হৃদপিণ্ডটাই যেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। নিচে শত শত মিটার গভীর খাদ, সামনে পাহাড়ের গায়ে লাগানো এক হাতেরও কম চওড়া কাঠের পথ, আর শরীরে বাঁধা শুধু একটা সেফটি কেবল। কিন্তু এই তরুণদের দেখে মনে হয়, তারা যেন পাহাড়ের খাড়া দেয়ালে না, যেন চেপেছে মেলার নাগরদোলায় । ভয় পাওয়ার বদলে তারা হাসছে, ছবি তুলছে, আর মজা করেই এগিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের দাবি, অফিসের চাপ, ডেডলাইন, মোবাইলের নোটিফিকেশন আর মাথার ভেতর জমে থাকা হাজারো চিন্তা থেকে মুক্তি পেতেই নাকি তারা এসেছে এই ভয়ংকর পাহাড়ি পথে।
চীনের সিচুয়ান প্রদেশের দাজিয়ান পর্বতে অবস্থিত ইউয়াননাও পথ এখন তরুণ অভিযাত্রীদের নতুন আকর্ষণ। মাথায় হেলমেট, শরীরে হারনেস, আর নিরাপত্তা কেবলে আটকে তারা এগিয়ে যাচ্ছেন পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি সরু পথে। কোথাও পাথরের নিচু ছাদের নিচ দিয়ে ঝুঁকে যেতে হচ্ছে। কোথাও আবার উন্মুক্ত কিনারা ধরে ধীরে ধীরে পা ফেলতে হচ্ছে।
এই পথটি প্রাচীন শু দাওয়ের অংশ। প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই পাহাড়ি পথ চীনের মূল ভূখণ্ডকে সিচুয়ানের সঙ্গে যুক্ত করত। তখন এটি ছিল যোগাযোগের পথ। আজ সেটিই হয়ে উঠেছে মানসিক ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার এক অদ্ভুত জায়গা। শহরের কংক্রিট, স্ক্রিন আর ব্যস্ততা থেকে দূরে এসে তরুণরা এখানে খুঁজছেন নিজের ভেতরের হারিয়ে যাওয়া সাহস।
দর্শনার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পথটি তাদের কাছে শুধু ভয়ংকর নয়, বরং রোমাঞ্চকর ও উত্তেজনাপূর্ণ। অনেক অংশ খুব খাড়া হওয়ায় শরীর সতর্ক থাকে, মনও মুহূর্তে জেগে ওঠে। কারও কারও কাছে এই অভিজ্ঞতা ওঠানামা করা আবেগের মতো। কখনও পথ মসৃণ, কখনও হঠাৎ কঠিন। ঠিক জীবনের মতোই, যেখানে চাপের পরেই আসে মুক্তির অনুভূতি।
পাখির চোখে দেখা যায়, সরু পথটি বিশাল পাহাড়ের গায়ে সাপের মতো উঠে গেছে। দাজিয়ান পর্বতের উচ্চতা প্রায় এক হাজার দুইশ মিটার। কিছু অংশ মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া। নিচে কোথাও কোথাও প্রায় ৫০০ মিটার গভীর খাদ। তাই যাত্রা শুরুর আগে প্রত্যেক অভিযাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পার হতে হয়।
ইউয়াননাও পথটি জিয়ানমেন পাস সিনিক এরিয়ার ভেতরে। মজার বিষয় হলো, দর্শনার্থীরা চাইলে লি বাইয়ের বিখ্যাত কবিতা দ্য হার্ডশিপস অব দ্য শু রোড আবৃত্তি করে বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগও পেতে পারেন।
আরটিভি/এআর