মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৪৭ পিএম
Failed to load the video
প্রতিদিনই বাড়ছে হামলার পরিধি, বাড়ছে পাল্টা হামলার মাত্রাও। যুদ্ধবিরতি বাতিলের পর মাত্র তিন দিনে ইরানের হামলায় কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সেই তথ্য উঠে এসেছে একাধিক সংবাদমাধ্যমে। যদিও ইরানের তিন শতাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে জবাবে জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও ওমানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।
এদিকে ইরানের হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে বাজছে সতর্কতাসূচক সাইরেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, সংঘাত এখন আর শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে শুরু হওয়া এই সংঘাত ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে। আর প্রতিদিনের নতুন হামলা ও পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দিচ্ছে আরও বড় ও অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে।
আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে রোববার—টানা তিন দিনে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিন শতাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয় শনিবার। সেদিনই প্রায় ১৪০টি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনীর স্থাপনা, গোলাবারুদের গুদাম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আইআরজিসির হামলার জবাব দিতেই চালানো হয় এই সামরিক অভিযান।
অন্যদিকে আল–জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও ওমানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি।
তাদের দাবি, এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্বালানি সংরক্ষণাগার, গোলাবারুদের ডিপো, ড্রোন কমান্ড সেন্টার, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একাধিক সামরিক অবকাঠামো।
এদিকে কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর কয়েকটি হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিও করেছে আইআরজিসি। আর এই দাবির বিপরীতে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়নি।
এভাবে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা আঘাত দুই পক্ষের এই সামরিক লড়াই এখন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তাকে দাঁড় করিয়েছে বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে।
আরটিভি/এআর