মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৫৫ পিএম
Failed to load the video
দুই মিত্র দেশের মধ্যে আবারো দেখা দিয়েছে বিরোধ। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যেন তুরস্কের কাছে কোনোভাবেই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করা হয়। কিন্তু সেই পরামর্শ এক কথায় উড়িয়ে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কাকে কী বিক্রি করবে, সেটা অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। হোয়াইট হাউসে বৈঠকের মাত্র একদিন আগে নেতানিয়াহুর উদ্দেশে এমন কঠোর বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এরপর পরই যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তুরস্ককে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন কূটনৈতিক বির্তক।
মতোবিরোধের শুরু তুরস্কের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, তুরস্কের বর্তমান সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের আদর্শে প্রভাবিত এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নেয়। তাই আঙ্কারার হাতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এর ইঞ্জিন তুলে দেওয়া উচিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের ঠিক একদিন আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "কেউ তাকে বলে দিতে পারে না, তিনি কী বিক্রি করবেন।" একই সঙ্গে তিনি তুরস্ককে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো মিত্র হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির সামরিক সক্ষমতারও প্রশংসা করেন। ট্রাম্প বলেন, তুরস্ক ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তারা দারুণ সহযোগী।
এদিকে ট্রাম্পের এই অবস্থান নতুন নয়। চলতি মাসের শুরুতেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির পথ আবারও খুলে দিতে চান। তবে বিষয়টি বাস্তবায়ন হচ্ছে না এখনই। কারণ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জেরে আঙ্কারার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেই সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় শর্ত এখনো পূরণ করতে পারেনি তুরস্ক।
মূলত ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার পরই তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকে দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধবিমান ইস্যুতে টানাপোড়েন চললেও আবারও আঙ্কারার প্রতি ইতিবাচক অবস্থান দেখিয়েছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগের দিন ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য মন্তব্য শুধু তুরস্ককেই বার্তা দেয়নি, বরং ইসরায়েলকেও বুঝিয়ে দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতি নির্ধারণ করবে ওয়াশিংটন, অন্য কোনো মিত্র দেশের আপত্তি নয়। ফলে এফ-৩৫ ইস্যু এখন শুধু একটি যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রশ্ন নয়, এটি পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তুরস্কের ত্রিমুখী কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন পরীক্ষা।
আরটিভি/এআর